আজ রোববার রাতে বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময়ই আজ দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, অর্থাৎ লাল রঙের চাঁদ। জ্যোতির্বিদ্যা-প্রেমীদের জন্য অসাধারণ এই মহাকাশীয় দৃশ্যটি উপভোগের দারুন সুযোগ এটি। এশিয়া মহাদেশসহ ইউরোপ ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা যাবে এই ‘ব্লাড মুন’ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।
ব্লাড মুন কী?
ব্লাড মুন হচ্ছে এমন একটি মহাকাশীয় ঘটনা যেখানে সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে, ফলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের ওপরে। আর এ কারণেই গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে চাঁদ। পরিচিত এই দৃশ্যটি-ই ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত, যা হাজার বছর ধরে পৃথিবীসুদ্ধ মানুষকে বিমোহিত করে আসছে।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে লাল দেখানোর কারণ সম্পর্কে সম্প্রতি এএফপি’র সাথে কথা বলেছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী রায়ান মিলিগান। তিনি বলেছেন যে, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে লাল দেখার কারণ হচ্ছে, একমাত্র সূর্যের আলো যা চাঁদে পৌঁছায় তা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে ‘প্রতিফলিত ও বিচ্ছুরিত হয়।’
রায়ান মিলিগান বলেন, ‘আলোর নীল তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয়ে থাকে, তাই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এটি আরও সহজে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই চাঁদকে এমন লাল, রক্তের মতো দেখায়।’
কখন, কোথায় দেখা যাবে বিরল এই চন্দ্রগ্রহণ?
ভারত, চীন, বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অধিবাসীরা আজকের এই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখার সুযোগ পাবেন। আফ্রিকার পূর্ব প্রান্ত ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকেও দৃশ্যমান হবে এটি। গ্রিনিচ মিন টাইম (জিএমটি) অনুসারে, পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি বিকেল ০৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ০৬টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
এদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাকাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ধ্যাবেলায় চাঁদ ওঠার ঠিক পর পরই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন সেখানকার অধিবাসীরা। তবে অবস্থানগত কারণে আমেরিকা মহাদেশ থেকে বিরল এই ঘটনাটি দৃশ্যমান হবে না বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে কখন দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ
এবারের এই ‘ব্লাড মুন’ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশের আকাশেও ভালোভাবে দেখা যাবে। সাধারণ সময়ের তুলনায় আকারে ৭ শতাংশ এবং উজ্জ্বলতায় ১৫ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে এই ব্লাড মুনের। ফলে একে ‘সুপার ব্লাড মুন’ নামেও অভিহিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে রোববার রাত ৯টা ২৮ মিনিট ২৫ সেকেন্ড থেকে। মোটামুটি এক ঘন্টা পর, অর্থাৎ রাত ১০টা ২৭ মিনিটি ০৯ সেকেন্ড থেকে শুরু হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ।
বাংলাদেশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে আজ রোববার রাত ১১টা ৩০ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড থেকে এবং শেষ হবে রাত ১২টা ৫২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে (সোমবার প্রথম প্রহরে)।
এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ গ্রহণ চলবে রাত ১২টা ১১ মিনিটি ৪৭ সেকেন্ড পর্যন্ত এবং আংশিক গ্রহণ শেষ হবে রাত ১টা ৫৬ মিনিটি ৩১ সেকেন্ডে। এরপর পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে রাত ২টা ৫৫ মিনিট ৮ সেকেন্ডে।
বাংলাদেশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের স্থায়ীত্বকাল মোটামুটি ১ ঘন্টা ২২ মিনিটের মতো। এই সময়ের মধ্যে ‘ব্লাড মুন’ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখতে পাবেন বাংলাদেশী মহাকাশপ্রেমীরা।
উল্লেখ্য, 'পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণ' হচ্ছে এমন একটি গ্রহণ যেখানে চাঁদ পৃথিবীর বাইরের এবং হালকা ছায়া অংশ দিয়ে অতিক্রম করে। এটি তাই ‘উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ’ নামেও পরিচিত। এটি আংশিক ও পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের আগে শুরু হয়, একইভাবে এটি শেষও হয় আংশিক ও পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের পরে। উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উজ্জ্বলতা সামান্য হ্রাস পায়, ফলে এটি খালি চোখে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও কিছু তথ্য…
নিরাপদে সৌরগ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ চশমা বা পিনহোল প্রজেক্টরের প্রয়োজন হলেও চন্দ্রগ্রহণ উপভোগের জন্য শুধু পরিষ্কার আবহাওয়া ও সঠিক জায়গায় থাকাটাই যথেষ্ট।
চলতি বছর ইতোমধ্যেই একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখেছে বিশ্ব। মার্চ মাসের পর এবার বছরের দ্বিতীয় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করতে যাচ্ছেন মহাকাশপ্রেমীরা। অথচ ২০২২ সালের পর টানা দু’বছর (২০২৩ ও ২০২৪ সালে) কোনো পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের দেখা মেলেনি।