বাংলাদেশের যে ২৪টি ইউটিউব চ্যানেল ভারতে ব্লকড

বাংলাদেশের ২৪টির বেশি ইউটিউব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে ভারতে। দেশটির সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে ইউটিউব। এই ইউটিউব নিষেধাজ্ঞা এসেছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক আন্তঃসীমান্ত সংঘাতের পরপরই। তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ডিসমিসল্যাবের গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। 

এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে দেশের পরিচিত সংবাদমাধ্যম, স্বাধীন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সাংবাদিক এবং বিশ্লেষকদের ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল। ভারতে ব্লকড ইউটিউব চ্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে– যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, ডিবিসি নিউজ, সময় টিভি, বাংলাভিশন নিউজ, চ্যানেল আই, দ্য ডেইলি ইনকিলাব, দৈনিক আমার দেশ ও মোহনা টিভি। ভারতীয় আইপি এড্রেস থেকে এসব চ্যানেলে প্রবেশের চেষ্টা করলে ইউটিউব জানায়, ‘জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার কারণে এই কনটেন্টটি বর্তমানে এই দেশে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।’

ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট যেসব চ্যানেল ভারত থেকে দেখা যাচ্ছে না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে– ইলিয়াস হোসেন, পিনাকী ভট্টাচার্য, কনক সরওয়ার, জাহেদুর রহমান, সুলতানা রহমান, জুলকারনাইন সায়ের, জ্যাকব মিল্টন, তাজ হাশমি, এনায়েত চৌধুরী, শাহেদ আলম ও বনি আমিনের চ্যানেল। এ ছাড়া স্বাধীন ও তথ্যমূলক প্ল্যাটফর্ম ফেস দ্য পিপল, দুরবিন নিউজ ডেইলি, কী কেন কীভাবে ও সিনে ব্রোস চ্যানেলগুলোও ব্লক করা হয়েছে। ডিজমিসল্যাবের স্বাধীনভাবে পরিচালিত পরীক্ষা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসব চ্যানেল ভারত থেকে দেখা যাচ্ছে না। 

ভিপিএন পরীক্ষার মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত হয় ডিসমিসল্যাব। গত ৯ থেকে ১২ মে পর্যন্ত ডিসমিসল্যাব ভারতীয় সার্ভারে সংযুক্ত হয়ে ৫০টির বেশি বাংলাদেশি ইউটিউব চ্যানেল পরীক্ষা করে। ৯ মে যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, বাংলাভিশন ও মোহনা টিভি ব্লক পাওয়া যায়। ১০ মে দেখা যায়, ডিবিসি নিউজ ও সময় টিভিও ভারত থেকে আর দেখা যাচ্ছে না। ভারতের দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত দুই সাংবাদিককে এসব ব্লক করা চ্যানেলের লিংক পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করে ডিসমিসল্যাব। 

আর যেসব ব্যক্তি ব্লকের আওতায় পড়েছেন, তাদের অনেকে ইউটিউবের পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। ১০ মে পিনাকী ভট্টাচার্য ইউটিউবের টেকডাউন নোটিশ শেয়ার করে জানান, ইলিয়াস হোসেন ও কানক সরওয়ারও একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। শাহেদ আলম ও জুলকারনাইন সায়েরসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, তাদের পরিচালিত চ্যানেলও ভারত সরকার বন্ধ করে দিয়েছে।