বয়স যাচাইয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে ইউটিউব

বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার। এআই’র নিত্যনতুন ব্যবহার সম্পর্কেও জানান দিচ্ছে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো। এবারে জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব জানাল, ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছে তাঁরা। ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ এর নিচে কি-না তা যাচাই করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে ইউটিউব। 

বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে ইউটিউব জানিয়েছে যে, তাঁদের এআই প্রযুক্তি বিভিন্ন সিগন্যাল বা সংকেত ব্যাখ্যা করে ব্যবহারকারীর সঠিক বয়স খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। একজন ব্যবহারকারী কী ধরনের ভিডিও সার্চ (খোঁজ) করেন, কোন ক্যাটাগরির ভিডিও দেখেন এবং তাঁর অ্যাকাউন্টটি কতদিন ধরে সক্রিয় আছে (অ্যাকাউন্টের স্থায়িত্ব)- এ ধরনের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেই ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করবে এআই। 

ইউটিউব বলছে, ‘তরুণদের কথা বিবেচনা করে বিশেষ কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে ইউটিউব প্রথম দিককার প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি, এবং আমরা গর্বিত যে, আবারও এমন একটি প্রযুক্তি প্রচলন করতে চলেছি যার কল্যাণে আমরা কিশোর-কিশোরীদের (টিন) গোপনীয়তা রক্ষা করে তাঁদের নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রদান করতে পারি।’

প্ল্যাটফর্মটি আরও জানিয়েছে যে, এআই’র সহায়তায় ইউটিউব যদি মনে করে একজন ব্যবহারকারীর বয়স ১৮’র নিচে, তাহলে তাঁরা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ বয়স-উপযোগী (এজ-অ্যাপ্রোপ্রিয়েট) সুরক্ষা ফিচারগুলো প্রয়োগ করবে। তবে সিস্টেম যদি ভুলবশত কোনও ব্যবহারকারীকে ১৮ বছরের কম বয়সী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে, সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর ক্রেডিট কার্ড বা সরকারি কোনো আইডি কার্ড দিয়ে বয়স যাচাই করে নিতে পারবেন। 

বয়স যাচাইয়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রাথমিকভাবে আমেরিকার স্বল্প সংখ্যক ব্যবহারকারীর মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখবে ইউটিউব। এআই সিস্টেমটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে বলে জানিয়েছে তাঁরা।

উল্লেখ্য, কিশোর-কিশোরীদের (টিন) মাঝে ইউটিউব অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম। ২০২৩ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত এক গবেষণা বলছে, প্রতি ৫ জন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন জানিয়েছে, তাঁরা ইউটিউব ও টিকটক ‘প্রায় সব সময়’ ব্যবহার করে থাকে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ৯৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী ইউটিউব ব্যবহার করে, অর্থাৎ তাঁদের মাঝে টিকটকের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব।  

তথ্যসূত্র: ম্যাশেবল