আজ বুধবার থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর করা হয়েছে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের আইনটি। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব কমাতেই অভূতপূর্ব এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
গত বছরের (২০২৪ সালের) নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে পাশ হয় অনলাইন সুরক্ষা সংশোধনী (সোশ্যাল মিডিয়া ন্যূনতম বয়স) বিলটি। এর সপ্তাহ দুয়েক পর ১০ ডিসেম্বর বিলটিতে গভর্নর-জেনারেল সম্মতি প্রদান করেন এবং বিলটি আইনে পরিণত হয়।
তবে আইনটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর না করে এটি বাস্তবায়নের জন্য ১ বছর সময় দেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার। উদ্দেশ্য ছিল, আইনটির প্রতিপালনে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া সুযোগ করে দেওয়া। তাঁরা যাতে ১৬ বছরের কম বয়সীদেরকে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বা প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে যে ১০টি সোশ্যাল মিডিয়া
অস্ট্রেলীয় সরকার তিনটি মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০টি প্রধান প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। প্ল্যাটফর্মগুলো হচ্ছে: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, টিকটক, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, রেডিট, এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিক ও সুইচ।
নিম্নোক্ত তিনটি মানদণ্ডগুলোর আওতায় পড়েছে বিধায় এই ১০টি প্ল্যাটফর্মকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। মানদণ্ডগুলো হলো:
(১) প্ল্যাটফর্মটির একমাত্র বা ‘গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য’ দুই বা ততোধিক ব্যবহারকারীর মধ্যে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের (সোশ্যাল ইন্টার্যাকশনের) সুযোগ তৈরি করা কিনা;
(২) এটি একজন ব্যবহারকারীকে অন্যান্য সকল ব্যবহারকারী বা কিছু সংখ্যক ব্যবহারকারীর সাথে যোগাযোগ করতে দেয় কিনা; এবং
(৩) এটি ব্যবহারকারীদেরকে কন্টেন্ট পোস্ট করার অনুমতি দেয় কিনা।
তবে ইউটিউব কিডস, গুগল ক্লাসরুম এবং হোয়াটসঅ্যাপ এই মানদণ্ডগুলোর আওতায় পড়ে না বিধায় এগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখেনি সরকার।
তথ্যসূত্র: বিবিসি