কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র। ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবার সরাসরি সমালোচনা করলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিককে। তার অভিযোগ, নতুন এআই মডেল ‘মিথোস’কে ঘিরে ভয় তৈরি করে বাজারে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে অল্টম্যান বলেন, ‘অ্যানথ্রপিক তাদের মডেলের সম্ভাব্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। যাতে এটিকে আরও শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
এটি এক ধরনের ‘ভয়ভিত্তিক মার্কেটিং’, যেখানে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। তারপর সেই প্রযুক্তিকে সীমিতভাবে কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়।’
অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি ‘মিথোস’ নামের একটি শক্তিশালী এআই মডেল সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি এতটাই ক্ষমতাশালী যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখনো নিরাপদ নয়।
তাদের মতে, ভুল হাতে পড়লে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা বা অন্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শুরুতে এটিকে সীমিতভাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই গবেষক নিকোলাস কার্লিনি এই মডেলটি পরীক্ষা করে কিছু উদ্বেগজনক বিষয় খুঁজে পান।
তার দাবি অনুযায়ী, মিথোস সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারে। নিজে থেকেই সেই দুর্বলতা কাজে লাগানোর উপায় খুঁজে বের করতে পারে। এমনকি নিজস্ব হ্যাকিং টুল তৈরি করার ক্ষমতাও রাখে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এটি অনেক ক্ষেত্রে শুধু সহকারী হিসেবে নয়। বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। যা একে প্রায় ‘ভার্চুয়াল হ্যাকার’-এর মতো আচরণ করতে সক্ষম করে।
অ্যানথ্রপিক বলছে, এই ধরনের ক্ষমতাশালী প্রযুক্তি সব ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা নিরাপদ নয়। কারণ এতে সাইবার আক্রমণসহ নানা ধরনের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।
অন্যদিকে স্যাম অল্টম্যানের বক্তব্য, এই ধরনের ভয়কে অতিরঞ্জিত করে প্রযুক্তিকে সীমিত রাখা হচ্ছে, যা বাজার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশলও হতে পারে।
এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। শক্তিশালী এআই একদিকে যেমন জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারে। অন্যদিকে ভুল ব্যবহারে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রযুক্তির ঝুঁকি বা অসাধারণ ক্ষমতা তুলে ধরে বাজারে আগ্রহ তৈরি করেছে।
মিথোস এআই ঘিরে অল্টম্যানের মন্তব্য আবারও এআই শিল্পের প্রতিযোগিতা ও নৈতিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রযুক্তি কতটা উন্মুক্ত হবে, আর কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এই ভারসাম্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।