ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যায় তদন্তের মুখে চ্যাটজিপিটি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এ ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি এবং এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইকে ঘিরেও বাড়ানো হয়েছে তদন্তের পরিধি।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার ২৭ এপ্রিল এক ঘোষণায় বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডকে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।’

তাঁর মতে, এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের আগে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন। এবার সামনে এসেছে এমন-ই কিছু তথ্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উথমায়ার লেখেন, ‘আমরা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে ইউএসএফ হত্যাকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করছি।’

তাঁর দাবি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি হত্যার পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। আর সেই অনুযায়ি সাজিয়েছিলেন সব পরিকল্পনা।

এর এক সপ্তাহ আগেও উথমায়ার ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে পৃথক একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। সেই তদন্তের সূত্রপাত হয় গত বছর ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সংঘটিত এক বন্দুক হামলার ঘটনায়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই হামলার আগে বন্দুকধারী চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে অস্ত্র ও হামলা সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়েছিল।

২১ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে উথমায়ার বলেন, ‘হামলাকারী শুধু সাধারণ তথ্য নয়, বরং হামলার পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রেও চ্যাটজিপিটির সহায়তা পেয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’

বর্তমানে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার তদন্ত করছে। নিহতরা হলেন জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তাঁরা দুজনেই পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহকে। তিনি নিহত লিমনের রুমমেট ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনার আগে আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটির কাছে কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। যা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ওপেনএআই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই ঘটনার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, এর সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নীতিমালা ও নজরদারি জরুরি হয়ে উঠেছে।

ফ্লোরিডার এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ তদন্তেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি এখন প্রযুক্তি, নৈতিকতা এবং আইনি জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।