যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম নতুন একটি যৌথ প্রতিষ্ঠানের অধীনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ব্যবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন সিনেটর এড মার্কি।
শুক্রবার টিকটক ইউএস ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। চিঠিতে মার্কি বলেছেন, টিকটকের চীনা মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সঙ্গে নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে এখনো যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অনেক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, টিকটকের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য চীনের হাতে যেতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীরা কী ধরনের ভিডিও দেখবেন, সেটিও প্রভাবিত করা হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
এই উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে একটি আইন পাস হয়। ওই আইনে বলা হয়, বাইটড্যান্স থেকে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম আলাদা করতে হবে, না হলে অ্যাপটি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবে।
পরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঠিক আগে একটি চুক্তি হয়। এর আওতায় টিকটকের মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্য ও বেশির ভাগ কার্যক্রম একটি নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় রয়েছে ওরাকলসহ কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। তবে বাইটড্যান্সও সেখানে কিছু অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে।
সমালোচকদের মতে, বাইটড্যান্স পুরোপুরি সরে না যাওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল উদ্বেগের সমাধান হয়নি।
নতুন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য টিকটকের অ্যালগরিদম আলাদাভাবে পরিচালনা করবে এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকবে ওরাকল। তবে টিকটকের কিছু কার্যক্রম এখনো বাইটড্যান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন বৈশ্বিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এড মার্কি বলেছেন, টিকটক চালু রাখার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আইনের মূল উদ্দেশ্য পূরণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে টিকটকের কনটেন্টে চীনের প্রভাব ঠেকানোর বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
চিঠিতে তিনি আগামী ১৮ জুনের মধ্যে কয়েকটি তথ্য চেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে টিকটক ইউএস ও বাইটড্যান্সের মধ্যে হওয়া অ্যালগরিদম সংক্রান্ত চুক্তির কপি, সফটওয়্যার কোড পর্যালোচনার পদ্ধতি এবং মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যালগরিদম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার বিস্তারিত তথ্য।
টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। সিনেটর মার্কির এই উদ্যোগের ফলে সেই বিতর্ক আবারও সামনে চলে এসেছে।