বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট। ওয়ানডে’তে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় করল টাইগাররা। আজ মিরপুরে তিন-ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে মিরাজের বাংলাদেশ।

এর আগে গত মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয়ের স্বাদ পায় স্বাগতিকরা। আর আজ অজিদের হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল টাইগাররা। 

আজ প্রথমে ব্যাট করে ৪২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর যখন ৮ উইকেটে ১৮৭ তখনই বাধ সাধে প্রকৃতি। বৃষ্টির কারণে অনেকটা সময় খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ম্যাচ যখন পুনরায় শুরু হয় তখন আর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল না। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। 

স্বাগতিকরা ৫ উইকেট হারিয়ে ৬ ওভার হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। আর তাতেই রচিত হয় টাইগার ক্রিকেটের আরেকটি সোনালী অধ্যায়, আর সৃষ্টি হয় ইতিহাস।

প্রথম ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজও সকালে টসে জেতেন অজি অধিনায়ক জশ ইংলিশ। তবে আজ বোলিংয়ের পরিবর্তে তিনি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নেয়নি অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। ইনিংসের প্রথম ১২ বলেই শূন্য রানে তাঁদের তিন তিনজন ব্যাটার উইকেট হারিয়ে ফিরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরটা দাঁড়ায় ২ ওভারে শূন্য রানে ৩ উইকেট। স্কোরবোর্ডটা দেখে অজি অধিনায়কের মনে তখন কি চলছিল, সেটা অনুমান করা খুব কঠিন কিছু নয়।

মোস্তাফিজ-তাসকিনের পাশাপাশি আজ বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামও ভুগিয়েছেন অজি ব্যাটারদের। তবে লোয়ার মিডল অর্ডারে লাবুশানের অপরাজিত ৫৫ এবং জাভিয়ের বার্টলেটের ৫২ রানের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরটা কিছুটা হলেও ভদ্রস্থ অবস্থানে পৌঁছায়। এর আগে অধিনায়ক ইংলিশের ৩৪ রান প্রাথমিক প্রতিরোধটা গড়ে দিয়েছিল।

বাংলাদেশের হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার তাসকিন ও মোস্তাফিজ। তানভির নিয়েছেন ২টি উইকেট।

বৃষ্টির সাময়িক বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্যটা দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২, প্রয়োজনীয় রানরেট ৫-এর কিছুটা নিচে। খুব কঠিন কিছু নয়। তবে ব্যাটিংয়ে টাইগারদের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তানজিদ তামিম শূন্য রানে ফিরে যান। তবে দলে ফেরা সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রান যোগ করে বাকিদের জন্য কাজটা অনেকটাই সহজ করে দেন। 

সৌম্য-শান্ত দু’জনেই ৪২ রান করে আউট হলেও প্রয়োজনীয় রানরেটটা ঠিক রেখেছিলেন। ৫ চার ও ২ ছয়ে সাজানো সৌম্য’র ৪২ রান আসে ৪৭ বলে। অন্যদিকে, একই স্কোর করতে শান্তর খরচ হয় ৫৩ বল।

পরবর্তীতে লিটন ২১ রানে এবং মোসাদ্দেক সৈকত ১৫ রানে ফিরে গেলেও ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে ঐতিহাসিক জয়ের প্রান্তরে নিয়ে যান তৌহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। হৃদয় ৫৫ বলে ৪০ এবং মিরাজ একশ স্ট্রাইক রেটে ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। 

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বার্টলেট, গ্রিন, রেনশ, জাম্পা ও মেরেডিথ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন। অজিদের জন্য এবারের এশিয়া সফরটা যে দুঃস্বপ্নের মতো যাচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাকিস্তানের কাছে ওডিআর সিরিজ হেরে বাংলাদেশে এসেও সেই হারের বৃত্ত থেকে আর বেরোতে পারেনি তারা।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর ঘরের মাটিতে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই ২১ বছরের খরা কাটিয়েছে টাইগাররা। এরপর আজ এমন কিছু করল- যা হয়নি এর আগে। সূচনা হলো ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ের।

অস্ট্রেলিয়ার এই দলটিতে তাঁদের প্রথম সারির বেশ ক’জন ক্রিকেটারই নেই। কেউ পড়েছেন ইনজুরিতে, কেউবা আছেন ছুটিতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দলটির নাম যখন অস্ট্রেলিয়া- যাদের বিপক্ষে এই সিরিজের আগে ২২ ওয়ানডেতে টাইগারদের জয় ছিল মাত্র ১টি- তাঁদের সাথে পরপর ২ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে অনন্য এক অর্জন। 

বিশেষ করে ঘরের মাঠে স্পিন-নির্ভর ‘ফর্মুলা ক্রিকেট’ থেকে বের হয়ে এসে টাইগাররা যে এখন অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে পেস সহায়ক উইকেট বানাচ্ছে, এবং সেখানে আধিপত্য দেখিয়ে জয় তুলে আনছে- সেটা হয়তো নতুন বাংলাদেশেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।