অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার ওডিআই সিরিজ জয়ের সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। আত্মবিশ্বাস ও দলীয় সমন্বয় ধরে রাখতে পারলে দ্বিতীয় ম্যাচ জয় অসম্ভব কিছু নয়, বলছেন সাবেক পেসার নাজমুল হোসেন। নাহিদ রানার দূর্দান্ত ফর্ম ও মোসাদ্দেকের অর্ন্তভুক্তিকে দলের শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার মিরপুরে সকাল ১১টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।
প্রথম ওয়ানডেতে মিরপুরে ফিরেছে কার্ডিফের স্মৃতি। ২১ বছর পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার অজিদের বিপক্ষে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা মিরাজ-মোস্তাফিজদের সামনে। গৌরবময় ইতিহাস তৈরির অপেক্ষায় টারগাররা। অন্যদিকে, ভুল-ত্রুটি শুধরে লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া।
সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে দলগত পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন। উইনিং কম্বিনেশন না ভেঙ্গে সেট ব্যাটারদের ইনিংস লম্বা করার তাগিদ দিয়েন তিনি। কার্ডিফে প্রথমবার মাইটি অস্ট্রেলিয়াকে পরাস্ত করার স্মৃতি রোমান্থন করে সাবেক এই পেসার বলেন, '২০০৫ সালের কার্ডিফের ওই দলের আমি এক সদস্য। ২১ বছর পর আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছি- এটা গর্বের বিষয়। বিশেষ করে যেভাবে বাংলাদেশ টিম খেলছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যে টিম কম্বিনেশন আছে- এই জায়গায়তো যেহেতু আমাদের অফ স্পিনার আছে, একটা লেফট আর্ম স্পিনার আমাদের দরকার। মোসাদ্দেকের সাথে কেউ যদি একটা সেঞ্চুরি করত, ধরেন শান্ত একটা সেঞ্জুরি করত, বা কেউ একটা সেট ব্যাটসম্যান থাকত, তাহলে কিন্তু আমাদের আরও ৩০ থেকে ৫০ রান বেশি করা সম্ভব ছিল।'
স্পিডোমিটারে নাহিদ রানার বোলিং গতি ধারাবাহিকভাবে দেড়শ' কিলোমিটারের কাছে। টাইগার তারকার প্রতিভা অস্ট্রেলিয়া শিবিরেও মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। জাতীয় দলের স্বার্থে রানার প্রতি যত্নশীল হওয়ার তাগিদ দিয়ে নাজমুল বলেন, মিচেল স্টার্কের মতো ১৫০ কিমি গতির বোলারদের খেলে কিন্তু অভ্যস্ত অস্ট্রেলিয়া। তারপরও কিন্তু নাহিদের বিপক্ষে তাদেরকে স্ট্রাগল করতে হয়েছে। নাহিদ রানার মতো একটা ছেলে যার উচ্চতা ৬ ফিট ৩-৪ ইঞ্চি, ১৫০ কিমিতে বল করছে। সামনে এমনও হতে পারে যে সে আইপিএলেও খেলতে পারে।
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। মিডল অর্ডারে জায়গা নিশ্চিতের লড়াইয়ে টিকে থাকতে চাইবেন। পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা থাকলে তার ওপর ম্যানেজমেন্টের আস্থা বাড়বে, বিশ্বাস নাজমুলের।
মোসাদ্দেক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই মোসাদ্দেকের নামে অনেক কিছু বলতে পারে। কিন্তু ওকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মোসাদ্দেক খুবই প্রফেশনাল এবং খেলার প্রতি অত্যন্ত ডেডিকেটেড। একটা ছেলে এত বছর পর ফিরে এসে দলকে এমন কিছু দেবে- সত্যি বলতে ও ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্য।
বাংলাদেশকে ছাড়া না দেওয়ার প্রত্যয় অস্ট্রেলিয়ার। তবে চাপ সামলে জয়ের ধারাবাহিকতায় থাকবে বাংলাদেশ, বিশ্বাস নাজমুলের। মোমেন্টাম পক্ষে থাকায় বাংলাদেশকে বরং এগিয়ে রাখছেন সাবেক এই পেসার।



