চলে গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

আর্জেন্টাইন ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসির জীবনে সাফল্য আর শিরোনামের অভাব ঘটেনি কখনো। কিন্তু যে শক্ত হাতটি নেপথ্যে থেকে একটি সাধারণ ছেলেকে ‘ফুটবল ঈশ্বরে’ রূপান্তর করেছিল, সেই নীরব কারিগর আর নেই। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর নিজ শহর রোসারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রচারবিমুখ ও নিভৃতচারী হিসেবে পরিচিত হোর্হে মেসি ছিলেন ছেলের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ হয়ে ওঠার পেছনের আসল স্তম্ভ। সন্তানের স্বপ্নের জন্য জীবন বাজির রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি।

ভিলা কনস্তিতুসিওনের আসিন্দার স্টিলওয়ার্কসের তার (ওয়্যার) বিভাগে ১২ ঘণ্টার কঠিন শিফটে কাজ করতেন জর্জ। কিন্তু ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ১৩ বছরের কিশোর মেসির অপার সম্ভাবনাকে বাস্তব রুপ দিতে নিজের নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নেন তিনি। সব ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে পাড়ি জমান বার্সেলোনায়।

সে সময় লিওনেল মেসির গ্রোথ হরমোনের ঘাটতির চিকিৎসা খরচ নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না, আবার রিভার প্লেটেও তাঁর যাওয়া আটকে গিয়েছিল। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও আশা হারাননি হোর্হে। ছেলেকে নিয়ে পৌঁছে যান বার্সেলোনার ১৫ দিনের ট্রায়ালে। তাঁর সেই অদম্য বিশ্বাসের প্রতিদান মিলছিল তিন মাস পর, যখন বার্সেলোনা একটি ন্যাপকিন কাগজে মেসির সেই ঐতিহাসিক চুক্তি সই করে।

পরবর্তীকালে মেসি যখন বিশ্ব ফুটবলের রাজসিংহাসনে আসীন হন, তখনও ছায়ার মতো মাঠের বাইরের সব ঝামেলা থেকে ছেলেকে আগলে রেখেছেন হোর্হে। বার্সেলোনায় ২০ বছরের রাজত্ব, পিএসজিতে নতুন অধ্যায় শুরু করা, কিংবা ইন্টার মিয়ামিতে মেসির বর্তমান দিনগুলো, সব ক্ষেত্রেই মাঠের বাইরের জটিল সিদ্ধান্তগুলোতে হোর্হে মেসি ছিলেন ছেলের প্রধান কাণ্ডারি ও পথপ্রদর্শক।