ম্যাচ শেষে ঘোষণা হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল

লক্ষ্য খুব বেশি না, মাত্র ১৭২। বাংলাদেশ জিতুক বা নিউজিল্যান্ড, একদম টেস্টের গতিতে কিউইরা ব্যাট না করলে ম্যাচ শেষ হতে বেশি সময় লাগার কথা না। সে কারণেই কি না, বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিসিবি। একদম ম্যাচ শেষেই ঘোষণা করা হবে বিশ্বকাপ স্কোয়াড, জানা যাবে আগামীকাল ভারতের ফ্লাইট ধরছেন কে কে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবিই জানিয়েছে এই সিদ্ধান্তের কথা। 

সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকবেন ১৫ জন। আরও ৩ জনকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে দলের সঙ্গে রাখা যাবে। এর মধ্যে বেশিরভাগ জায়গাতেই কে কে খেলবেন, মোটামুটি নিশ্চিত। যা একটু সংশয়, কয়েকজনের থাকা না থাকা নিয়েই। আর এ প্রশ্নেই সবার আগে চলে আসছে দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নাম। এ দুজন স্কোয়াডে থাকবেন কি না, এটা নিয়েই গুঞ্জন চলছে গতকাল থেকেই। 

তামিমকে বিশ্বকাপের দলে নেওয়া হবে কি না, এ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, কোচ চন্ডিকা হাথুরাসিংহে ও নির্বাচক কমিটি।

কারণ আর কিছুই নয়, তামিমের চোট। পিঠের চোটে গত কয়েক মাস ধরেই বেশ ভুগছেন এই ওপেনার। যে কারণে প্রথমে অবসর নিয়ে নিয়েছিলেন, পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরেও আসেন এই বাঁহাতি ওপেনার। পিঠের চোট সারানোর জন্য এশিয়া কাপে খেলেননি, লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, তামিমের চোট নিতে তত বেশি চিন্তায় পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তামিম নিজেও স্বীকার করেছেন, পুরোপুরি ফিট নন তিনি, তাঁকে যদি বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়, তাহলে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথাও যেন বিবেচনা করা হয়। এ কথা তামিম নিজে নির্বাচকদেরও জানিয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে চোট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, এমন শঙ্কাও রয়েছে।

তামিম হয়তো পুরোপুরি স্বচ্ছ ও সৎ থাকার উদ্দেশ্য নিয়েই নির্বাচকদের জানিয়েছেন পুরোপুরি ফিট না থাকার কথা। অর্থাৎ তামিমকে যদি স্কোয়াডে নেওয়াও হয়, সে ক্ষেত্রে সব ম্যাচে তামিমকে পাওয়া না যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে এমন একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত – যিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আনফিট?

এদিকে আনফিট কোনো খেলোয়াড়কে দলে চান না অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আর কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, তা যতই তামিমের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হোক না কেন। এমনও শোনা যাচ্ছে, পুরোপুরি ফিট নন এমন খেলোয়াড় দলে রাখলে, তার  প্রতিবাদে অধিনায়কত্ব ছেড়েও দিতে পারেন সাকিব। গত কয়েক বছর ধরে দেশের দুই সেরা খেলোয়াড়ের সম্পর্কের গ্রাফটা পড়তির দিকেই। তামিমকে নিয়ে বিশ্বকাপের আগে এই জল্পনা-কল্পনা অধিনায়ক সাকিবকে আরও অস্বস্তিতে ফেলছে।

শেষমেশ তামিম কি থাকবেন? না থাকবেন না? না থাকার কথাই ঘুরছে বাতাসে। তবে এটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে ম্যাচ শেষে।