তিনি নিজে পেসার। বলতে গেলে বাংলাদেশের পেস বোলিং প্রথম বৈশ্বিক স্বীকৃতিই পেয়েছে তাঁর হাত ধরে। মাশরাফি বিন মুর্তজা যখন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দল নিয়ে বিশ্লেষণে বসবেন, সেখানে পেস বোলিং নিয়েই সবচেয়ে বেশি সময় যে কাটবে – এ আর আশ্চর্য কী!
বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জানিয়ে মাশরাফি বললেন, এই পেস বোলিং এক সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা ছিল, অথচ এখন এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো-খারাপ দুটিই ঠিক করে দেবে পেস বোলিংয়ের ওপর।
‘এই দলের এখন সবচেয়ে শক্তির জায়গা যেটা এক সময় সবচেয়ে দুর্বলতার জায়গা ছিল, সেটা হলো পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট। আমি মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের যত ভক্ত আছেন তারা সবাই দলের পেস অ্যাটাক নিয়ে গর্ব করতে পারেন। বিশেষ করে যে পাঁচজন দলে গেছে, এই পাঁচজনই দলে যখন যেখানে খেলানো হয়েছে, পারফর্ম করেছে’ – ফেইসবুক পেইজে ভিডিওতে বিশ্লেষণে বলেছেন মাশরাফি।
এই পাঁচজনের মধ্যে একজনের দ্রুত উন্নতিটা ভালো লেগেছে মাশরাফির, ‘আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে শরীফুল ইসলামের বোলিং। মোস্তাফিজ কিন্তু অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করে আসছিল ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ভেতরের দিকে বল ঢোকানোর, শরীফুল অনেক পরে সেটা শিখতে শুরু করেছে। কিন্তু ও সবচেয়ে দ্রুত শিখে নিয়েছে। সম্প্রতি যদি ওর বোলিং দেখেন, দেখবেন ও ব্যাটসম্যানদের ভোগাচ্ছে। কারণ ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের ভেতরের দিকে বল নিতে পারছে। সেই সঙ্গে ও বাইরের দিকেও বল নিতে পারে। এটা একটা বোলারের জন্য নতুন বলে সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা।’
আর তাসকিনের প্রশংসা তো থাকছেই, ‘তাসকিনের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। গত দুই-আড়াই বছর ধরে ও যেভাবে পরিশ্রম করে নিজেকে ফিরিয়ে এনেছে, যেভাবে পারফর্ম করছে... বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোতেও কিন্ত ওকে এখন ডাকছে। এটা পরিষ্কার তাসকিন-শরীফুল দারুণ ছন্দে আছে।’
হাসান মাহমুদ মাশরাফির চোখে ‘ডেথ বোলিংয়ে এখনই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার। দারুণ ইয়র্কার করতে পারে।’ মোস্তাফিজ নতুন বলে ধুঁকলেও ফ্ল্যাট উইকেটে ডেথ বোলিংয়ের জন্য তাঁকে দলে রাখা যেতে পারে বলে মনে হচ্ছে মাশরাফির। কেন? কারণ, মাশরাফির চোখে, ‘পুরোনো বলে মোস্তাফিজ বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার।’ তরুণ তানজিম সাকিবের সাহস, অ্যাকুরেসি আর ভ্যারিয়েশনের প্রশংসার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের কথাও বলেছেন মাশরাফি, ‘ও ভালো ব্যাটিংও করে, অনেকে হয়তো এটা জানে না।’
সব মিলিয়ে মাশরাফির মনে হচ্ছে, ‘পেস বোলিং বিভাগটা এখন সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। কেন বলছি এ কথা? কারণ এই টুর্নামেন্টে যদি বাংলাদেশ ভালো কিছু করতে পারে, সেটা অবশ্যই পেইস বোলিংয়ের জন্য করবে। আর যদি খুব খারাপ করে, সেটাও পেইস বোলিংয়ের জন্যই করবে। প্রতিপক্ষকে যদি ২৫০-৩০০ –এর মধ্যে রাখতে চাই, তাহলে ফাস্ট বোলারদের অবশ্যই ভালো বোলিং করতে হবে।’
বাংলাদেশের পেস বোলিংকে বিশ্বের সেরা বোলিং অ্যাটাকের সারিতেই রাখতে চান মাশরাফি, ‘সম্প্রতি ওদের বোলিং যেটা দেখেছি, পাকিস্তানের ফ্ল্যাট উইকেটে, ওদের অ্যাকুরেসি, সুইং...সব মিলিয়ে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলিং অ্যাটাক বাংলাদেশের। আপনারা যারা স্ট্যাটস দেখেন, সর্বশেষ এক-দেড় বছরে বাংলাদেশের পেস বোলিং অবশ্যই তিন-চারের মধ্যে আছে। আমি মনে করি, এই পেস বোলিংয়ের ওপর ভরসা রাখা যায়। শুধু একটাই দোয়া করি, যেন তারা ফিট থেকে টুর্নামেন্টটা খেলে আসতে পারে।’