বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সূচিই এমন যে, প্রতিটি দল বাকি নয় দলের সঙ্গেই একবার করে খেলবে। সে ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য একটা মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারে বাংলাদেশ। সেটি এই যে, ইংল্যান্ড ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘টি-টোয়েন্টি’ই খেলতে আসছে!
ইংল্যান্ড হয়তো এমনই খেলবে বিশ্বকাপে। ভারতের মাঠে মাঠে ব্যাটিং উইকেটে বাকি দলগুলোও কি এভাবেই খেলবে? ইঙ্গিত তেমনই। দিনের অন্য প্রস্তুতি ম্যাচে থিরুভানন্থপুরামে নিউজিল্যান্ডের ৩২১ রানের পর বৃষ্টিবাধায় ছোট হয়ে যাওয়া ম্যাচে ৩৭ ওভারে ২১১ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, বৃষ্টি আইনে জিতেছে ৭ রানে। এদিকে গৌহাটিতে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচে ইংল্যান্ডও একইরকম ব্যাটিংই তো করেছে।
আজ বৃষ্টিবাধায় ৩৭ ওভারে নেমে যাওয়া প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ১৮৮ রান করলেও বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৭ রানের। কিন্তু কীসের ৩৭ ওভার, টি-টোয়েন্টি ঢঙে ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড লক্ষ্যটা পেরিয়ে গেছে ৭৭ বল হাতে রেখে! চার-ছক্কাময় ইনিংসে ইংল্যান্ড উইকেটও হারিয়েছে, শেষ পর্যন্ত জিতেছে ৪ উইকেটে।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে রান করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ (৭৪) ও তানজিদ তামিম (৪৪)। বোলিংয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেয়া পাঁচ পেসারকেই আজ বাজিয়ে দেখেছে, তানজিদ সাকিব ছাড়া উইকেট পেয়েছেন বাকি চারজনই। ১৮তম ওভারে প্রথম স্পিন আনে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তিন স্পিনার বোলিং করেছেন, তাঁদের মধ্যে উইকেট পেয়েছেন শুধু নাসুম।
ইংল্যান্ড কেমন পিটিয়েছে, তার একটা প্রমাণ এই যে, এক স্পিনার শেখ মেহেদির ২ ওভারে ১০ রানের বাইরে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৬-এর নিচে ইকোনমি শুধু তাসকিনের (৪ ওভারে ২৩)। শরীফুল তো ৩ ওভারে ৩২ রান দিয়েছেন।
ইংল্যান্ড ইনিংসে ৮টি ছক্কা মেরেছে, এর ৬টিই এসেছে সাতে নামা মঈন আলীর ব্যাট থেকে। তাদের ইনিংসে চার ছিল ২০টি! অর্থাৎ, মোট রানের প্রায় ৬৫ শতাংশই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা নিয়েছেন চার-ছক্কায়!
বাংলাদেশ অবশ্য উইকেট নিতে পেরেছে, বোলিংয়ে এই একটা স্বস্তি থাকতে পারে। বাংলাদেশের বোলিংয়ের শুরুটা কী দারুণই না হয়েছিল! প্রথম ওভারের শেষ বলে মোস্তাফিজ তুলে নিলেন ডাওইড ম্যালানের উইকেট। আগের বলে চার হাঁকানো ম্যালান ফুল লেংথের ওয়াইড বলটা তুলে দিলেন স্লিপে।
এরপর অবশ্য ইংল্যান্ডের স্বরূপ বোঝা গেল। হয়তো এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে এমনই দেখা যাবে। জনি বেয়ারস্টোকে তো এমনই দেখা যায়। বেধড়ক পিটুনির ক্রিকেটীয় সংস্করণ যা হয়, তা-ই করেছেন বেয়ারস্টো। মোস্তাফিজেরই করা পঞ্চম ওভারের প্রথম বলটা হলো দারুণ ইয়র্কার, তাতে শেষ হলো বেয়ারস্টোর বেয়াড়া ইনিংস। তার আগে ২১ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় তিনি করলেন ৩৪, ইংল্যান্ডের রান ততক্ষণেই ৫১! যেন টি-টোয়েন্টি চলছিল!
এরপর জো রুট একদিকে টিকে ছিলেন, আর অন্যদিকে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে গেছেন, পিটিয়েছেন, আর আউট হয়েছেন! হ্যারি ব্রুক ১৫ বলে ১৭ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড, জস বাটলার ১৫ বলেই ৩০ রান করে শরীফুলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। লিয়াম লিভিংস্টোন অবশ্য ঝড় তোলার আগেই (১১ বলে ৭) তাঁকে ফিরিয়েছেন তাসকিন।
এঁদের আসা-মারা আর যাওয়ার মিছিলে এমনই অবস্থা যে, দ্বিতীয় ওভারে ক্রিজে যাওয়া রুট ইনিংসের ১৪তম ওভার শেষে (লিভিংস্টোন ওই ওভারে আউট হয়েছেন) খেলতে পেরেছেন মাত্র ১৮ বল। দলকে ১৯৩ রানে রেখে মঈন আলী (৩৯ বলে ৫৬) যখন আউট হচ্ছেন শেখ মেহেদির শিকার হয়ে, রুটের রান তখনো ৩৭ বলে ২৩।
শেষ পর্যন্ত দলকে জেতানো ডাবলসে ৪০ বলে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন রুট। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ইনিংসে শেকড় গেঁড়ে বসার মানসিকতা সম্ভবত তাঁরই আছে।