ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কী অনায়াসেই না জিতে গেল নিউজিল্যান্ড! বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে ২৮২ রানে আটকে রাখার পর ব্যাটিংয়ে রীতিমতো টি-টোয়েন্টি খেলেছে কিউইরা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে দুজন – রাচিন রবীন্দ্র ও ডেভন কনওয়ে।
চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ২৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে জিতিয়ে দিয়েছেন দুজন, সে পথে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোরও হলো কনওয়ে ও রবীন্দ্রর। কনওয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে গেলেন ১২১ বলে ১৫২ রানে, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি দেখা রবীন্দ্র অপরাজিত থাকলেন ৯৬ বলে ১২৩ রানে।
তা যদি বলা হয়, এই এক ম্যাচ শেষেই বলে দেয়া যায় যে, এবার বিশ্বকাপ নিউজিল্যান্ড জিতবে – কেমন লাগবে? পাগলের প্রলাপ মনে হচ্ছে, তাই তো? কিন্তু গত চারটি বিশ্বকাপের রেকর্ড তো সেই ইঙ্গিতই দেয়।
দারুণ দাপুটে জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড – এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু এক ম্যাচ পরই ‘নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতবে’ বলে দেয়া বোকামি বলে মনে হতে পারে। সে ‘বোকামি’টা করছে গত চার বিশ্বকাপের রেকর্ড। যা বলছে, বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি যে দলের ব্যাটসম্যান করবেন, সে দলই জিতবে বিশ্বকাপ!
২০০৭ বিশ্বকাপ, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং করেন ১১৩ রান। সে বিশ্বকাপ জেতে অস্ট্রেলিয়া।
২০১১। ভারত-বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষেই সেবারের টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন বীরেন্দর শেবাগ (১৭৫ রান)। সেবার বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
এর চার বছর পরও দেখুন। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত সে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান? অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ১৩৫ রান। সেবার বিশ্বকাপ যায় অস্ট্রেলিয়ার ঘরে।
আর গত বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জো রুটের ১০৭ রানের ইনিংস ছিল সে টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি। এই নিউজিল্যান্ডকেই হারিয়ে চার বছর আগে মহানাটকীয় ফাইনালে জিতে যায় ইংল্যান্ড।
তো, এবার রাচিন রবীন্দ্র ও ডেভন কনওয়ের সেঞ্চুরির পর নিউজিল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ও কি বিধিলিপি বলে মনে হচ্ছে? হওয়াটা অযৌক্তিক নয় মোটেও। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ নিউজিল্যান্ড যেভাবে খেলেছে, তাতে প্রভাত দিনের আভাস দিচ্ছে ভেবে নেওয়াতেও দোষের তো কিছু নেই!