আফগানদের পাকিস্তান থেকে বের করার ‘শোধ’ তুললেন ইব্রাহিম

গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক অনেকেই। কালই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে নামা নুর আহমেদ তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের রান উৎসব থামিয়েছেন, রান তাড়ায় রহমানউল্লাহ গুরবাজ ঝড় তুলেছেন। তিনে নেমে দলকে কক্ষচ্যুত হতে দেননি রহমত শাহ।

তবে ম্যাচসেরা হয়েছে ইব্রাহিম জাদরান। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ৮৭ রানের এক ইনিংস খেলেছেন জাদরান। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর এই ইনিংসের কারণে পথ হারায়নি আফগানিস্তান। এমন ইনিংসে মুগ্ধ হয়ে ব্যাট উপহার দিয়েছেন বাবর আজম। তবে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে পেয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জাদরান।

ম্যাচসেরার পুরস্কারটা পাকিস্তান থেকে বের করে দেওয়া আফগান শরনার্থীদের উৎসর্গ করেছেন জাদরান, ‘আমার জন্য ও আমার দেশের জন্য খুব আনন্দ হচ্ছে আমার। ম্যাচসেরার এই পুরস্কার তাদের উৎসর্গ করছি যাদের পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

পাকিস্তানে আফগান শরনার্থী আজ নতুন নয়। মোহাম্মদ নবীরা ক্রিকেটার হিসেবে শুরুই করেছিলেন শরনার্থী শিবিরে। পাকিস্তানের আঞ্চলিক পর্যায়ে আফগান ক্রিকেটারদের দলে খেলেছেনও নবী। তবে ২০০২ সালে হামিদ কারজাই ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকে অনেক আফগানিই দেশে ফিরেছেন।

কিন্তু ২০২১ সালে আবার তালেবান সরকার ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার আবার আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার প্রবনতা বেড়েছে। যেকোনো উপায়ে দেশছাড়ার চেষ্টায় বিমানের চাকায় উঠে পালানোর চেষ্টায় মৃত্যুর ঘটনাও দেখা গেছে। পাশের দেশ হিসেবে পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়ার সংখ্যাই বেশি।

পাকিস্তানের এক দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বেআইনিভাবে ১৭ লাখ ৩০ হাজার আফগান এখনো আছেন। তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে তারা। গত ২১ অক্টোবরই ৩ হাজার ২৪৮ জন আফগান শরনার্থীকে পাকিস্তান থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে থাকার কোনো আইনি অনুমতি নেই এমন ৫১ হাজার আফগানকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তালেবান সরকারের অধীনে দেশে ফিরতে হয়েছে।

নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ যে আফগান ক্রিকেটারদের রাগিয়ে দিয়েছে সেটা স্পষ্ট জাদরানের কথায়। তবে একটু পরই ক্রিকেটে ফিরেছেন এই ওপেনার, ‘আমি চেয়েছি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগোতে এবং সেটাই করেছি। আমরা (গুরবাজ ও তিনি) একসঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো কারণ অনূর্ধ্ব-১৬ থেকেই একসঙ্গে খেলি।’