সাকিব-মিরাজরাই ফর্মে ফেরালেন ওপেনারকে

অথচ তাঁকে নিয়ে সপ্তাহখানেক আগেও কী সমালোচনাটাই না হচ্ছিল!

একদমই রান করতে পারছিলেন না ফখর জামান। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, গত কয়েকমাস ধরেই এই মারকুটে ওপেনারের ব্যাট থেকে মোটেও সাহায্য পাচ্ছিল না পাকিস্তান। আগে আগে আউট হয়ে যাচ্ছিলেন, পরে বেশি চাপ পড়ে যেত আরেক ওপেনার ইমাম উল হকের কাঁধে। ফখর জামানের ব্যাটিং টেকনিক নিয়েও নিয়মিত সমালোচনা করে গেছেন ওয়াসিম আকরাম, মিসবাহ উল হক, মঈন খান, শোয়েব মালিক, শোয়েব আখতার, রমিজ রাজার মতো সাবেকরা। রান করার জন্য টেকনিকে উন্নতি করতে হবে, সবার কথার সারমর্ম এটাই।

সমালোচনা আরও হচ্ছিল তাঁর জন্য আবদুল্লাহ শফিকের মতো ব্যাটসম্যান সুযোগ পাচ্ছিলেন না – সে কারণে। শেষমেশ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পরপর ফখরকে বাদ দিয়ে আবদুল্লাহকে যখন দলে নেওয়া হয়, একাদশে  থাকার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে এক ম্যাচও সময় নেননি তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন, এরপর অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানের বিপক্ষেও করেছেন ফিফটি। এর মধ্যে চোটেও পড়েন ফখর। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা!

ফখর জামান একাদশে ফিরবেন কীভাবে, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই ইমাম উল হককে নিয়ে চিন্তা শুরু হয়ে গেল পাকিস্তানের। তাঁরও একই সমস্যা, ফর্ম নেই। গতকাল ইমামের জায়গায় তাই চোট থেকে ফেরা ফখরই সুযোগ পেয়েছিলেন আবার। এবার আর ভুল করেননি এই বাঁহাতি। এমন এক ইনিংস খেলেছেন, তাতে অন্তত এই বিশ্বকাপে একাদশ থেকে আর বাদ যাচ্ছেন না খুব সম্ভবত।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটাকে ফর্মে ফেরার উপলক্ষ বানিয়ে নিয়েছেন ফখর জামান। মিরাজের বলে, উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৭৮ বলে ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৮১ রান করে ফিরেছেন ফখর। তাতেই বাংলাদেশের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।

ম্যাচসেরার পুরস্কারের চেয়েও ফর্মে ফেরার ব্যাপারটাই ফখরকে স্বস্তি দেবে, নিশ্চিত!