শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে এই টানাপোড়েনের শুরু বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের সূত্র ধরেই। মূলত বেশ কয়েক মাস ধরেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসকদের ওপর বিরক্ত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী। বিরক্তি চরমে ওঠে বিশ্বকাপে একের পর এক ম্যাচে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখার পর। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, গত ৩ নভেম্বর দেশটির সংসদে ক্রীড়ামন্ত্রী রোশান রানাসিংহে এক বিবৃতিতে এসএলসিকে 'দুর্নীতিবাজ ও বিশ্বাসঘাতক' বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি জানান, বোর্ডের সবার পদত্যাগ করা উচিত। এরপর লঙ্কান বোর্ডের সচিব মোহন ডি সিলভা পদত্যাগ করেন। কিন্তু এতেও রোশান রানাসিংহের ক্ষোভ যায়নি।
বিশ্বকাপে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে ভারতের কাছে ৫৫ রানে অলআউট হয়ে ৩০২ রানে হেরে যাওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যে লঙ্কান বোর্ড জানায়, তারা এই ব্যর্থতার তদন্ত করবে। এরপর পাঁচদিন আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ম্যাচের আগেই দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, বোর্ডের সবাইকে বরখাস্ত করা হচ্ছে, সে জায়গায় শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
কিন্তু বরখাস্ত সেই বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভাও হার মানেননি। তিনি আদালতে আবেদন করেছেন মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে। আদালত আপিলের বিপরীতে দুই সপ্তাহের 'স্টে অর্ডার' দিয়েছেন শাম্মি সিলভাদের পক্ষে। অর্থাৎ, আগের বোর্ডকেই পুনর্বহাল করেছেন। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে বলেও রায় দিয়েছেন আদালত। এই সপ্তাহেও বোর্ডের এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে শ্রীলঙ্কার সংসদে।
শুধু আদালতে আবেদন করেই ক্ষান্ত হয়নি, আদালতের স্টে অর্ডার পাওয়ার পর এসএলসি ক্রীড়ামন্ত্রীর এক অভিযোগের জবাবে বিবৃতিও দিয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, এসএলসি তাদের হিসাবের বই থেকে ২০ লাখ ডলার সরিয়ে নিয়েছে। তবে বোর্ড বিবৃতিতে জানায়, ওই অর্থ সরানো হয়নি, সেটি এক একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে নেওয়া হয়েছে শুধু লঙ্কান বোর্ডের পরিচালন ব্যয় বহনের স্বার্থে।