দেশ বাদ দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ- ক্রিকেটারদের মোক্ষম শাস্তি বোর্ডের 

জাতীয় দলের তুলনায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলে বহুগুণ বেশি অর্থ আয়ের সুযোগ থাকে ক্রিকেটারদের। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্রিকেটাঙ্গনে। ক্রিকেটাররা জাতীয় দলের চেয়ে আইপিএল, বিপিএল, পিএসএল কিংবা এ ধরনের টুর্নামেন্ট খেলতে বেশি আগ্রহী থাকে। 

ট্রেন্ট বোল্ট, জিমি নিশামদের মতো অনেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জন্য নিজেকে মুক্ত রাখতে জাতীয় দলের চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়াতে দ্বিধাবোধ করেন না।
এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হতে চাচ্ছিলেন তিন আফগান ক্রিকেটার- নাভিন উল হক, মুজিব-উর-রহমান ও ফজল হক ফারুকি। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) বার্ষিক কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছেন এ তিনজন। 

দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের এভাবে ছাড়তে চায় কোন বোর্ড? এসিবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থাকলে তাঁদের বিভিন্ন লিগ খেলতে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। এতে নাভিন-মুজিব-ফারুকিদের আইপিএলে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসিবি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা জানিয়েছে, ‘আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, জাতীয় দলের খেলোয়াড় মুজিব-উর-রহমান, ফজল হক ফারুকি ও নাভিন উল হকের ২০২৪ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তি স্বাক্ষর পিছিয়েছে। তারা যেহেতু জাতীয় দলের বার্ষিক চুক্তিতে থাকতে চায় না, বোর্ড তাদের আগামী দুই বছরের জন্য ছাড়পত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতায় এসিবি বলেছে, ‘কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো, ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় দলের চেয়ে বাণিজ্যিক লিগকে অগ্রাধিকার- এসব জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তারা যেহেতু চুক্তিতে থাকতে চায় না, তাই শাস্তিস্বরূপ এসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ 

বোর্ডের কমিটিতে থাকা এক সদস্য বলেছেন, ‘তিন ক্রিকেটার আনুষ্ঠানিকভাবে এসিবিকে জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে শুরু হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকতে চান না। এমনকি জাতীয় দলে ডাকার আগে তাদের অনুমতি নেওয়ার অনুরোধও করেছেন তারা।’

এমন ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে এসিবি। তদন্ত শেষে ওই তিনজনকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না রাখার সুপারিশ করে কমিটি। এছাড়া দুই বছরের জন্য তাদের ছাড়পত্র না দেওয়ার অনুরোধ করে তারা। এমনকি চলমান ছাড়পত্র বাতিলের পরামর্শও দিয়েছে। 

আগামী মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইপিএলে খেলার কথা তিন জনেরই। মুজিবকে ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপিতেই দলে টেনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। অন্যদিকে পেসার নাভিনকে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ও ফারুকিকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ধরে রেখেছে। মুজিব এই মুহূর্তে বিগব্যাশ লিগে খেলছেন। এখন দেখার বিষয়, তিন ক্রিকেটারের ছাড়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে মুজিবকে দেশে ফিরতে বলে কি না এসিবি।