গতকাল শ্রীলঙ্কা সফরে প্রথম জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের ৩ রানে হারিয়েছে সফরকারীরা। ওদিকে ম্যাচ হারের দায় স্বদেশি আম্পায়ার লাইন্ডন হানিবলকে দিয়েছেন লঙ্কান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্কা। বলেছেন, ৫৮ বছর বয়সী আম্পায়ারের উচিত অন্য চাকরি করা।
গতকাল ২১০ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৯ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন ৩৩ বলে ৫১ রানে থাকা কামিন্দু মেন্ডিস। প্রথম তিন বলে দুই চার মেরে ৮ রান তুলেছিলেন মেন্ডিস। ঝামেলা বাধে চতুর্থ বলে। ওয়াফাদার মোমান্দের বলটি প্রায় বুক উচ্চতায় গিয়েছিল, কিন্তু মেন্ডিস উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন বলে স্কয়ার লেগে থাকা আম্পায়ার হানিবল তা নো বল দেননি।
কিন্তু রিপ্লেতে দেখা গেছে, মেন্ডিস পপিং ক্রিজে পেছনে থাকলেও সে বল তাঁর কোমরের ওপর থাকত। আইসিসির আইন অনুযায়ী এমন বল নো বল। কিন্তু নিজ দেশের বিপক্ষেই ভুল সিদ্ধান্তে অটল থাকেন হানিবল। পরের বলে ওয়াইড হলেও পঞ্চম বলে কোনো রান নিতে পারেননি মেন্ডিস। শেষ বলে ছক্কা মেরেও তাই দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। কিন্তু আম্পায়ার নো বল দিলেই হয়তো ম্যাচের ভাগ্য বদলে যেত।
এ ব্যাপার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসারাঙ্গা তাই নিজেকে থামাতেই পারেননি, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন কিছু হওয়া ঠিক না। যদি এটা কোমরের কাছাকাছি হতো, তাহলে সমস্যা হতো না। কিন্তু যে বল এত উপর দিয়ে যাচ্ছে… আরেকটু হলেই ব্যাটসম্যানের মাথায় লাগত। যদি এটাও দেখতে না পান, তাহলে সে আম্পায়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত না। অন্য কোনো চাকরি করলেই ভালো করবেন তিনি।’
৫৮ বছর বয়সী হানিবল ২০১৮ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের দায়িত্ব পান। এখন পর্যন্ত ৬০টি ম্যাচে দেখা গেছে তাঁকে। তিনি নো বল না দেওয়ায় মেন্ডিস রিভিউ চেয়েছিলেন, কিন্তু আইসিসির বর্তমান নিয়মে আউট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, এমন কোনো ঘটনা রিভিউ করা যায় না। এমনকি আম্পায়াররাও আউটের সম্ভাবনা না থাকলে নো বলের জন্য তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য নিতে পারেন না।
এ ব্যাপারে আগের আইন ফেরত চাইছেন হাসারাঙ্গা, ‘আগে এসব ঘটনায় রিভিউ করা যেত, কিন্তু আইসিসি সেটা বাতিল করেছে। আমাদের ব্যাটসম্যান তো রিভিউ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তৃতীয় আম্পায়ার যদি পায়ের নো বল দেখতে পারে, তাহলে এমন নো বলও তিনি দেখতে পারেন। তা করতে না পারার কোনো কারণ নেই।’