সৌম্যর পর তাওহীদও হৃদয় রাঙালেন, আফসোসেও পুড়লেন

পিচ সবুজাভ, তবে এটা ব্যাটিং পিচই। রাতে এখনো কিছুটা কুয়াশা পড়ে, যা বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন করে রাখে। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামতে হওয়া বাংলাদেশের তাই অলিখিত লক্ষ্যই ছিল - ৩০০ পেরোতে হবে। কিন্তু সৌম্য সরকার আউট হওয়ার পর থেকে গতি হারাতে থাকা বাংলাদেশ ইনিংসে এরপর তাওহীদ হৃদয় ছাড়া আর কেউই রান পেলেন না। বাংলাদেশেরও আর ৩০০ ছোঁয়া হলো না।   

চট্টগ্রামে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৮৬ রান করেছে। তবে দলের ৩০০ পেরোনো স্কোর না হওয়ার পাশাপাশি বড় আফসোস সম্ভবত তাওহীদ হৃদয়কে ঘিরেও। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা পেতে পেতে যে হলো না হৃদয়ের। শেষ দুই বলে ছক্কা হাঁকানো হৃদয় শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে গেলেন ৯৬ রানে!

এর আগে দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য সরকার ৬৮ রানে আউট হওয়ার পরও আফসোস ছিল, তাঁর সেঞ্চুরিটা হলো না! ৩২ রান দূরে থাকলেও সৌম্য আজ যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন, তাঁর সেঞ্চুরিটা অবশ্যম্ভাবীই মনে হচ্ছিল। শেষবেলায় হৃদয়ের আফসোস দেখার পর অবশ্য সৌম্যর আফসোস আর থাকার কথা নয়!

সৌম্যর সেঞ্চুরির চেয়েও বড় আফসোস সম্ভবত এই যে, সৌম্য আউট হওয়ার পরই গতি হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের ইনিংস। লিটন দাস টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ‘ডাক’ মেরে আউট হলেন শুরুতেই, এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে সৌম্যর ৭৫ রানের জুটিটাতে পায়ের নিচে কিছুটা মাটি পেয়েছে বাংলাদেশ। শান্ত ৩৯ বলে ৪০ রান করে আউট হয়ে গেলেও সৌম্য ছিলেন ভরসা হয়ে।

হৃদয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে কিছুক্ষণ সেট হওয়ার পর আবার আক্রমণ শুরু করেন সৌম্য। ৫২ বলে ফিফটি পেলেন, এরপর আপারকাটে ছক্কাসহ দারুণ সব শটে রানের গতিও বাড়াচ্ছিলেন। হৃদয় তখনো অন্য প্রান্তে সেভাবে হাত খোলেননি। কিন্তু ২২তম ওভারে হাসারাঙ্গাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন সৌম্য, তাঁর ৬৮ রানের ইনিংস শেষ হয় বাংলাদেশকে ১৩০ রানে রেখে।

তখন কে জানত, বাংলাদেশ এরপর এভাবে ভুগবে! মাহমুদউল্লাহ এলেন আর গেলেন, মাঝে কী করতে চাইলেন তিনিই জানেন! মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই হাসারাঙ্গাকে এগিয়ে গিয়ে মারার চেষ্টায় স্টাম্পড হলেন হাসারাঙ্গার গুগলি বুঝতে না পেরে। মুশফিক (২৫), মিরাজরাও (১২) মিডল অর্ডারে ভরসা জোগাতে পারলেন না। হৃদয়কে একা রেখে ফিরলেন দুজনই।  বাংলাদেশের মিডল অর্ডার থেকে এল মাত্র ৫৯ রান।

বাকি কাজটা তাই তানজিম সাকিব (১৮) আর তাসকিন আহমেদকে (১০ বলে ১৮*) নিয়ে সেরেছেন হৃদয়। কিন্তু মাঝে এত এত উইকেটের পতনে যে ক্ষতিটা হলো, বাংলাদেশের রানের গতি হারিয়ে যায়। ১৭তম ওভারেই ১০০ রান পেরিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ২০০ পেরোল কিনা ৩৯তম ওভারে গিয়ে!

সেখান থেকে যা লড়ার হৃদয়ই লড়েছেন। ফিফটি পেরিয়েছেন ৭৪ বলে (২ চারে), এরপর আরও আগ্রাসী না হয়ে আর উপায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত যখন ইনিংস শেষে মাঠ ছাড়ছেন, তাঁর নামের পাশে ১০২ বলে ৯৬ রান, চার ৩টি, ছক্কা ৫টি!

কিন্তু ওই যে একটু আফসোস থেকেই গেল! হৃদয়ের ৪টি রানের আফসোস, বাংলাদেশের আরও কিছু বেশি রানের।