নামগুলো একবারে পড়ে নিন, বছর পনের-বিশেক আগের কোনো অল্পব্যস্ত সকাল কিংবা আলসে বিকেলে টিভিপর্দার সামনে বসে থাকার স্মৃতি হয়তো মনে ভিড় করবে।
কেনেডি ওটিয়োনো, রবি শাহ, স্টিভ টিকোলো, হিতেশ মোদি, মরিস ওদুম্বে, টমাস ওডোয়ো, পিটার অনগন্ডো, মার্টিন সুজি, টনি সুজি, কলিন্স ওবুইয়া…। সে কেনিয়া এক চেনা প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশের ক্রিকেটের হাঁটি হাঁটি পা পা চলার দিনগুলোতে কেনিয়াও ছিল বড় প্রতিপক্ষ।
সে কেনিয়া এখন বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে এক প্রায় অচেনা এক দেশ। বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, কোয়ালিফায়ারেও জিম্বাবুয়ে-নামিবিয়া, এমনকি উগান্ডার সঙ্গেও এখন আর পেরে ওঠে না। টিকোলোদের প্রজন্মের সঙ্গে কেনিয়ার ক্রিকেটও যেন হারিয়ে গেছে।
কেনিয়াকে নিয়ে নস্টালজিয়ায় ভোগা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আজ মন খারাপ করার মতোই এক খবর এসেছে। টিকোলোদের প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে এতদিন পর্যন্তও কেনিয়ার জার্সিতে খেলে গেছেন কলিন্স ওবুইয়া। স্মৃতির পাতায় জড়িয়ে থাকা সেই শেষ বিন্দুও আজ ক্রিকেটকে জানিয়ে দিলেন বিদায়।
বয়স হয়ে গেছে ৪২, আর কতই-বা খেলবেন! গতকাল আফ্রিকান গেমসের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী প্লে-অফে উগান্ডার কাছে হারের পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন ওবুইয়া। ম্যাচের পরই বলেছেন, ‘খেলাটায় ২৩ বছর কাটিয়ে দেওয়ার পর আজ আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। কেনিয়ার হয়ে খেলাটাই এক বড় গর্বের ব্যাপার ছিল।’
২০১৪ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস হারিয়ে ফেলা কেনিয়ার হয়ে লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ওবুইয়া ১০৪ ওয়ানডেতে ২০৪৪ রান করার পাশাপাশি ৩৫ উইকেট নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন ৭৬ ম্যাচ, তাতে ১৭৯৪ রান নিয়ে কেনিয়ার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।
কেনিয়ার সোনালি দিনে ওবুইয়ার অবদান দেশটার ক্রিকেট ইতিহাসে লেখা থাকবে। ২০০৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথে সুপার সিক্সে শ্রীলঙ্কাকে হারায় কেনিয়া, সেদিন ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ওবুইয়া। এর মধ্যে তিন উইকেট অরবিন্দ ডি সিলভা, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার! সেবার বিশ্বকাপে ২৮.৭৬ গড়ে ১৩ উইকেট নেন ওবুইয়া।
২০১১ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছিলেন ওবুইয়া, যা তাঁকে এনে দেয় ম্যাচসেরার স্বীকৃতি। সে বিশ্বকাপে কেনিয়ার অধিনায়কও ছিলেন তিনি। কেনিয়া ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারায় ২০১৩ সালে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন।