বাংলাদেশে ইতিহাস গড়া আম্পায়ার বলছেন, বিদেশের চেয়ে দেশে আম্পায়ারিং করা কঠিন

বাংলাদেশের ক্রিকেটের আম্পায়ারদের জন্য আজ বড় একটি দিন বলা চলে। এই প্রথম আইসিসির এলিট প্যানেলে বাংলাদেশের আম্পায়ার যুক্ত হয়েছেন। শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত অনেকদিন ধরেই ছিলেন আলোচনায়। সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দারুণ আম্পায়ারিংয়ের পর আজ প্রথম বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসেবে আইসিসির আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে সুযোগ পেয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী শরফুদ্দৌলা।

আইসিসি আজ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক রিভিউ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে আইসিসির আম্পায়ারদের ‘ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল’ থেকে শরফুদ্দৌলাকে ‘এলিট প্যানেলে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে আইসিসির ইন্টারন্যাশনাল প্যানেলের আম্পায়ার ছিলেন শরফুদ্দৌলা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পথচলা শুরু ২০১০ সালে মিরপুরে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে।  

আইসিসির এলিট প্যানেলে যুক্ত হয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন শরফুদ্দৌলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক ভিডিওবার্তায় নিজের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের নানা তথ্য থেকে শুরু করে এলিট প্যানেলে যুক্ত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। 

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলা শরফুদ্দৌলা আম্পায়ারিংয়ে কীভাবে এলেন, সে গল্প জানিয়েছেন ভিডিওবার্তায়, ‘আমার ক্রিকেটের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৪ সালের আইসিসি ট্রফি দিয়ে, তখন আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি। ১৯৯৭ আমরা যখন কোয়ালিফাই করলাম, তখন আমি দলে ছিলাম না আমার ইনজুরির কারণে। তখন টিমে না থাকা আমার একটা দুঃখের কারণ ছিল। বিশ্বকাপ খেলতে পারতাম, তখন খেলা হয়নি। যেহেতু পারিনি, তখন ভাবলাম যদি ক্রিকেট না খেলি তাহলে কী করা যায়। কোচিং করব চিন্তা করেছিলাম, কিন্তু ঐটা ফিজিক্যাল একটা জব ছিল, তখন চিন্তা করলাম হয়তো-বা বাংলাদেশ একদিন টেস্ট স্ট্যাটাস পাবে, তখন টেস্ট আম্পায়ারিং করতে পারব, হয়তোবা বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করব। সেই চিন্তা থেকেই আম্পায়ারিংয়ে আসা।’ 

ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাঁচটি ম্যাচে অন ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন শরফুদ্দৌলা। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অজিদের টেস্ট ম্যাচেও আম্পায়ার ছিলেন তিনি। বিদেশের মাটিতে আম্পায়ারিংয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করেছি, অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট ম্যাচ করেছি। কিন্তু বিদেশের মাটিতে, সত্যি কথা, চাপ অনুভব করিনি, যা আমি দেশের মাটিতে করি। আমাদের কাছে হয়তো অনেক আশা থাকে, তবে আমরা যখন মাঠে যাই আমাদের তো নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়।’

বাংলাদেশে আম্পায়ারিং করা কেন কঠিন, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘আমরা যেহেতু ক্রিকেট-পাগল জাতি, সেহেতু আমরা চাই আমাদের দলটা জিতুক। কিন্তু আমাদের (আম্পায়ারদের) সিদ্ধান্তের জন্য কখনো হয়তো ফলাফলটা একটু এদিক-সেদিক হয়। কিন্তু এটা খেলার অংশ। কেউ কখনো ইচ্ছা করে ভুল করে না। যা-ই হোক, এটা নিয়ে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া হয়। তাই আমার মনে হয় বিদেশে ম্যাচ করার চেয়ে দেশে ম্যাচ (আম্পায়ারিং) করা কঠিন।’