মুম্বাইয়ের মাঠেও পান্ডিয়ার নামে দুয়ো, দর্শককে আচরণ ঠিক করতে বললেন ভারতের সাবেক

আইপিএলে হার্দিক পান্ডিয়া মাঠে নামা মানেই যেন দর্শকের দুয়োধ্বনি। চলমান আসরে এমন কাণ্ড নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রথম দুটি ম্যাচ অ্যাওয়ে হওয়ায় অনেকে ধারণা করেছিলেন, ঘরের মাঠে বদলে যাবে দৃশ্যপট। আজ নিজেদের মাঠ ওয়াংখেড়েতে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের মুখোমুখি হয় হার্দিক পান্ডিয়ার মুম্বাই। কিন্তু এখানেও টসের সময়ে পান্ডিয়ার নাম শুনেই দর্শক দুয়ো দিতে শুরু করলেন! 

এতে কিছুটা যেন বিরক্তই হলেন ধারাভাষ্যকার ও ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান সাঞ্জায় মাঞ্জরেকার। দুয়ো উঠতেই দর্শককে বকুনি দিলেন তিনি।  

আইপিএলের এবারের আসরে গুজরাট টাইটানস ছেড়ে নিজের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাইয়ে ফেরেন পান্ডিয়া। তবে দলবদলের অন্যতম শর্ত হিসেবে পান্ডিয়া মুম্বাইয়ের অধিনায়কত্ব চেয়েছেন বলে জানাচ্ছে ভারতের অনেক সংবাদমাধ্যম। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এতদিনের সফল অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে সরিয়ে পান্ডিয়াকে অধিনায়ক করেই দলে টেনেছে। তখন কে জানত, দর্শক রোহিত শর্মাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো মানতেই পারবেন না। 

একদিকে গুজরাট সমর্থকেরা গত দুই মৌসুমে তাদের অধিনায়ক পান্ডিয়ার এভাবে চলে যাওয়া মানতে পারেননি। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের সমর্থকেরাও এভাবে বিনা নোটিশে রোহিতকে সরিয়ে পান্ডিয়াকে অধিনায়ক করায় খেপেছেন। তা অধিনায়ক করা ফ্র্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্ত হলেও সংবাদমাধ্যমে যখন খবর এল যে, পান্ডিয়াই অধিনায়কত্বের শর্ত দিয়ে ফিরেছেন, দর্শকের ক্ষোভ দিক বদলে পান্ডিয়ার ওপরই পড়েছে। ভারতজুড়ে রোহিত সমর্থকদেরও তাই চক্ষুশূল হয়েছেন পান্ডিয়া।

গুজরাট টাইটানস ও হায়দরাবাদের মাঠে খেলতে গিয়ে দর্শকের দুয়োধ্বনি থেকে শুরু করে টিপ্পনী সবই শুনতে হয়েছে পান্ডিয়াকে। ‘বোনাস’ হিসেবে মুম্বাইয়ের টানা দুই হার তো আছেই! তবে আজ মুম্বাইয়েরই মাঠ ওয়াংখেড়েতে এভাবে দুয়ো শুনবেন পান্ডিয়া, তা সম্ভবত কেউ ধারণা করতে পারেননি।  

টস করার সময় উপস্থাপক সাঞ্জায় মাঞ্জরেকার অধিনায়কদের পরিচয়পর্বে পান্ডিয়ার নাম নিতেই দুয়োধ্বনি ওঠে গ্যালারিতে। এতে একটু যেন বিরক্ত হলেন মাঞ্জরেকার। দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আচরণ ঠিক করুণ!’ 

মাঞ্জরেকারের এমন কাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। কেউ ভারতের জাতীয় দলের এক খেলোয়াড়ের পক্ষে দাঁড়ানোয় মাঞ্জরেকারের প্রশংসা করছেন। আবার এর বিপক্ষে গিয়ে অনেকে বলছেন, দর্শক কী করবেন সেটা এভাবে স্কুল শিক্ষকের ভঙ্গিতে ঠিক করে দেওয়া ধারাভাষ্যকারের কাজ নয়।