আইপিএলে গতকাল রাতে রাজস্থান রয়্যালসের সমর্থকেরা এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। ইডেন গার্ডেনসে আগে ব্যাটিং করে সুনীল নারিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রাজস্থানকে ২২৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
কলকাতার মাঠে তো বটেই, আইপিএলেই এত লক্ষ্য তাড়া করে জেতার ঘটনা বিরল। কিন্তু জস বাটলার অবিশ্বাস্য এক ইনিংসে সে স্বাদটাই দিলেন কাল।
রান তাড়ায় প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ১৬৬ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন বাটলার। দলের প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও উইকেটে টিকে ছিলেন বলে সেটি মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু ইনিংসের মাঝপথে (৭ থেকে ১৪ ওভার) ইংলিশ ব্যাটসম্যান যেন ভুলেই গিয়েছিলেন, তিনি দুই শ রানের বেশি রানের লক্ষ্যে নেমেছেন। এ সময় ২১ বল খেলে মাত্র ২২ রান করেন তিনি। দলটির সমর্থকেরাও বোধহয় বাটলারের এমন ব্যাটিং দেখে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন!
১৪ ওভার শেষে ওপেনিংয়ে নামা বাটলারের নামের পাশে ৩৩ বলে ৪২ রান! অন্যদিকে ১২৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে রাজস্থানও তখন ধুঁকছে। ম্যাচের পাল্লা ভালোভাবেই হেলে পড়েছিল কলকাতার দিকে। কিন্তু এরপর যা হলো, তা কল্পনাকেও হার মানিয়ে দেয়। কলকাতার বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে পরের ২৭ বলে নেন ৬৫ রান। ব্যস, আর কী লাগে। রাজস্থানও ম্যাচটা জেতে ২ উইকেটে।
নারিনের সেঞ্চুরি ম্লান করে ৫৫ বলে আইপিএল ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেন বাটলার। আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড এটিই। দুবার ঘটনাটি ঘটলেও রেকর্ডটি শুধু রাজস্থানের একার।
এর আগে ২০২০ সালে শারজাতে তৎকালীন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ২২৩ রান তাড়া করে ৪ উইকেটে জিতেছিল রাজস্থান। সে ম্যাচে মাত্র ৪ রান করে আউট হয়েছিলেন বাটলার। আর গতকাল নিজের কথা যেন কেউ না ভোলে সে ব্যবস্থা করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক।
রাজস্থান ইনিংসের ১৭ তম ওভারের পঞ্চম বলে যখন পাওয়েল আউট হলেন, তখনো জয় থেকে ৪৬ রান দূরে রাজস্থান। সেটা নিতে হবে মাত্র ১৯ বলে। অথচ উইকেটের অন্য প্রান্তে বাটলারকে সঙ্গ দেওয়ার মতো স্বীকৃত কোনো ব্যাটসম্যান নেই। ট্রেন্ট বোল্ট নারিনের প্রথম বলটিতে কোনো রান না নেওয়ায় বল কমে আসে ১৮তে।
পরের ওভারে বোল্ট কোনো রান করার আগেই আউট হয়েছেন। বাটলারকে স্ট্রাইকে রাখার চেষাট্র বলি হয়ে ফিরেছেন রানআউট হয়ে। দশম ব্যাটসম্যান আবেশ খান তো কেবল বাটলারকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য উইকেটে এসেছেন। তার নামের পাশেও কোনো রান নেই। রান করবেন কীভাবে, বলই তো খেলার সুযোগ পাননি আবেশ।
শেষ দিকের দায়িত্বটা একার কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন বাটলার। তিনি জানতেন, যা করার তাঁকে একাই করতে হবে। বারবার সুযোগ পেয়েও সিঙ্গেল নেননি। শেষ পর্যন্ত করলেনও সেটা। বাটলার যখন দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ৬০ বলে ১০৭ রান! ১৭৮ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসে ৯টি চার ও ৬টি ছক্কা মেরেছেন বাটলার।
এবারের আইপিএলে হঠাৎ হঠাৎ জ্বলে ওঠা বাটলারের শেষ তিন ম্যাচে এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আইপিএল ক্যারিয়ারে সপ্তম। এরমধ্যে রান তাড়ায় তৃতীয়। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলে আটটি সেঞ্চুরি করলেন বাটলার। মজার বিষয়, সবগুলো ম্যাচেই বাটলারের দল জিতেছে।
বাটলারের ছায়ায় ঢেকে গেছে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৫০৪তম ম্যাচে এসে প্রথম তিন অঙ্ক ছোঁয়া নারিনের সেঞ্চুরি। ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করা নারিন শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১০৯ রান করেন। পরে বল হাতে প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর স্পেলেই রাজস্থানের রানের গতি থেমে গিয়েছিল। শেষ ওভারে পাওয়ালের কাছে ১ চার ও ২ ছক্কা খেলেও স্পেল শেষ করেছেন ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়ে। কিন্তু বাটলারের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে নারিনের এমন পারফরম্যান্স কোনো কাজেই এল না কলকাতার।