গুজরাট টাইটানসকে একটা ধন্যবাদ দিতে পারেন ব্যাটে-বলের লড়াইয়ে সমতা দেখতে চাওয়া নিখাঁদ ক্রিকেটপ্রেমীরা। আইপিএলে এত এত রান দেখতে দেখতে খেলাটা কি শুধুই ব্যাটসম্যানদের নাকি বলে যে প্রশ্ন উঠছিল, আজ সে প্রশ্নের বানের সামনে বাঁধ নিয়ে হাজির হলো গুজরাট।
যেন রবীন্দ্রনাথের গল্পের কাদম্বিনী তারা! গল্পে কাদম্বিনী মরে প্রমাণ করেছিলেন, তিনি এর আগে মরেননি। গুজরাট আজ নিজেদের মাঠে দিল্লি ক্যাপিট্যালসের বিপক্ষে ৮৯ রানে অলআউট হয়ে প্রমাণ করল, আইপিএল শুধুই ব্যাটসম্যানদের খেলা নয়। এখানে বোলাররাও মাঝে মাঝে কথা বলেন।
আইপিএলে সর্বশেষ তিন ম্যাচের পাঁচ ইনিংসই ২০০-র বেশি রান দেখেছে। এই যা, দুই শ-ও এখন আর আইপিএলে আলাদা করে বলার মতো কিছু নাকি! গত পরশুই তো সানরাইজার্স হায়দরাবাদ নিজেদের দিন পনেরো আগের গড়া রেকর্ড ভেঙে আইপিএলে রেকর্ড ২৮৭ রান করল! জবাবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (২৬২) পাল্টা লড়াই বুঝিয়ে দিয়েছে, আইপিএলে এবার ইনিংসে ৩০০ দেখা গেলেও সেটিকে আর অভাবনীয় বলা যাবে না।
এর আগে কলকাতা এক ম্যাচে ২৭২ করেছে, তার আগে হায়দরাবাদই ২৭৭ রান করে রেকর্ড গড়েছিল। সে ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস আবার পাল্টা জবাব দিয়েছে ২৪৬ রান করে। আজকের আগে ১৫০-র নিচে ইনিংসই ছিল মাত্র ৭টি, এর মধ্যে গুজরাটেরই দুটি। ছয় ইনিংসে দুবার দেড় শ-র নিচে গুটিয়ে যাওয়াই বলে, বাকিদের রানের পাহাড় গড়ার পেছনে ছুটোছুটিকে ‘মোহমায়া’ জ্ঞান করে গুজরাট পথ চলেছে নিজেদের ঢংয়ে।
সে পথে আজ বাকিদের পাহাড়ের বিপরীতে উইয়ের ঢিবি নিয়ে হাজির শুবমান গিলের দল!
তা ১২০ বলের ইনিংসে ২১ বল বাকি থাকার সময়েই একটা দল ৮৯ রানে অলআউট হয়ে গেলে তাদের ইনিংস নিয়ে আর কী বলার থাকতে পারে! তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে গেছেন, তার মধ্যে সাই সুদর্শন (১২) আর রাহুল তেওয়াতিয়া (১০) কোনোমতে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন, যা কিছু রান করেছেন রশিদ খান (২৪ বলে ৩১)। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারের মধ্যে ৩০ রানেই গিল-ঋদ্ধিমান-সুদর্শন-মিলারকে হারানো গুজরাটের ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়েছে রান ৫০ পেরোনোর আগে।
দিল্লির বোলাররা মিলেমিশেই কাজ করেছেন, মুকেশ কুমার ১৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ইশান্ত শর্মা ৮ রানে উইকেট নিয়েছেন ২টি। সুযোগ বুঝে মূলত উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়া ট্রিস্টান স্টাবসও ২ উইকেট নিয়েছেন!