জিম্বাবুয়ের উইকেটগুলোকে মুড়ি-মুড়কি বানিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ

এ যদি হয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ, তবে নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া যায় – বাংলাদেশের প্রস্তুতির তুলনায় পরীক্ষাটা কঠিন হবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ টি-টোয়েন্টির একটা সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ, এরপর বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাদের মাটিতে তিন টি-টোয়েন্টির একটা সিরিজই শুধু পাবেন শান্ত-লিটন-সাকিবরা। তবে সেই প্রস্তুতির শুরুতেই আজ জিম্বাবুয়েকে একেবারে ধসিয়ে দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ!

জিম্বাবুয়ের উইকেটকে যেন মুড়ি-মুড়কি বানিয়ে ফেলেছেন তাসকিন, শেখ মেহেদি, সাইফউদ্দিনরা। এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের মাত্র ৮ ওভার গেছে, এর মধ্যেই ৭ উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের! রান উঠেছে মাত্র ৪৩!  

দ্বিতীয় ওভারে ক্রেইগ আরভিন বোল্ড হয়ে গেছেন শেখ মেহেদির অসাধারণ এক ডেলিভারিতে। পিচে পড়ার পর বলটা ঘুরবে ভেবে খেলতে চেয়েছিলেন আরভিন, কিন্তু মেহেদির ডেলিভারিটা ছিল আর্ম বল। সোজা স্টাম্পে। শেষদিকে ব্যাট নামাতে চেয়েও পারেননি আরভিন।

এরপরই যা কিছু ব্যাটিং করল জিম্বাবুয়ে। জয়লর্ড গাম্বি আর ব্রায়ান বেনেট কয়েকটি চার মারলেন, রান উঠছিল দ্রুত। কিন্তু পঞ্চম ওভারে দেড় বছর পর বাংলাদেশের জার্সিতে ফেরা সাইফউদ্দিনকে ‘হোমকামিং গিফট’ দিয়ে বিদায় গাম্বির। পায়ের বাইরের বল, ছেড়ে দিলে ওয়াইডই হতো। গাম্বি ফাইন লেগে মারতে চাইলেন, কিন্তু বল গেল সোজা শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়ানো তাসকিনের হাতে। তাসকিনকে এক ইঞ্চি নড়তেও হলো না! ১৪ বলে ১৭ রান করে ফিরলেন গাম্বি, জিম্বাবুয়ের রান তখন ৫ ওভারে ২/৩৬।

জিম্বাবুয়ের উপহারের তখনো শেষ হয়নি। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে রানআউট ব্রায়ান বেনেটও (১৫ বলে ১৬)। মেহেদির বলটা সফট হ্যান্ডে খেলে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন, দৌড়ও শুরু করে দিয়েছিলেন বেনেট। কিন্তু অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামস মানা করলেন। ফেরত আসা আর হলো না বেনেটের। ক্রিজে ফিরতে ফিরতে মাহমুদউল্লাহর থ্রো ধরে স্টাম্প ভেঙে দিলেন উইকেটকিপার জাকের আলী।

এরপর শুরু হলো জিম্বাবুয়ের ‘সোনালি হাঁসে’র মেলা! ওভারের পরের বলেই আবার উইকেট, নেমেই সুইপ করতে গিয়েছিলেন সিকান্দার রাজা। বল তাঁর গ্লাভসে লেগে স্লিপে লিটনের হাতে। কী বুঝে তবু রিভিউ নিয়েছেন রাজা, তিনিই জানেন। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরলেন রাজা। তিন বলের ব্যবধানে ১/৩৬ থেকে জিম্বাবুয়ে হয়ে গেল ৩/৩৬!  

কিছুক্ষণ পর ৫/৩৮-ও হয়ে গেল! আবার গোল্ডেন ডাকের পালা। শন উইলিয়ামসকে দিয়ে শুরু। আগের ওভারেই ক্রিজে গেলেও বল খেলা হয়নি। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে তাসকিনকে জায়গা বানিয়ে শট খেলতে গিয়ে নিশ্চিত করলেন, আর বল খেলাও হচ্ছে না। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড উইলিয়ামস – ১ বলে ০ রানে ফিরলেন।

রাজা-উইলিয়ামসদের এতদিনের সঙ্গী বলেই কি না, রায়ার্ন বার্লও একই পথ ধরলেন – গোল্ডেন ডাক! কী ভেবে ওই মুহূর্তে ওই শট খেলতে গেছেন তিনিই জানেন। চারদিকে উইকেটের মিছিলের মধ্যে তাসকিনের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বলে ব্যাট চালিয়ে দিয়েছেন, বল গেল রিশাদের হাতে। এর পরের ওভারে সাইফউদ্দিনের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন লুক জঙ্গুয়েও।