আজ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। দলে তেমন কোনো চমক নেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি ক্যাম্প ও সিরিজে থাকা নামগুলো থেকেই বিশ্বকাপের ১৫জন বেছে নিয়েছে নির্বাচক কমিটি।
আলোচনার জন্ম দিয়েছে শুধু একটি নাম। জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে বহুদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সিরিজে ৮ উইকেটে পেলেও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তাঁর। অথচ, দলে আর কোনো পেস বোলিং অলরাউন্ডার নেই।
সাইফউদ্দিনের বদলে তানজিম হাসান সাকিবকে নেওয়ার ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন, ‘তানজিম সাকিবকে আমরা এর আগেও শ্রীলঙ্কা সিরিজের সময় দেখেছি। তার একাগ্রতা, মাঠে সর্বোচ্চ দেওয়ার প্রচেষ্টা, সেটা তাকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে। ফিল্ডার হিসেবেও সে খুব ভালো।আর আমরা সাইফ উদ্দিনের দিকে বেশি ঝুঁকেছিলাম, ব্যাটিং করার সুযোগ তো পাননি, ডেথ ওভারে ইয়র্কার দেওয়ার যে ক্ষমতা ছিল। সেটা অনেক কম দেখা গেছে। আরও অনেক উন্নতি করতে হবে।’
গত ১ মে ছিল আইসিসির কাছে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল দেওয়ার শেষ সময়। প্রধান নির্বাচক বলেছেন, সে দলে সাকিব নয়, সাইফউদ্দিনই ছিলেন, ‘ঘরোয়া টুর্নামেন্টে যা করেছে, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে (পারফরম্যান্সে)তারতম্য দেখেছি। না হলে সে আমাদের মাথায় ছিল। বিপিএলের কথা চিন্তা করেই আমরা একটা দল গুছিয়ে ছিলাম। তার থেকে আমরা খুব বেশি বিচ্যুত হইনি। সাইফউদ্দিনই একমাত্র খেলোয়াড় যে আমাদের ৩০ তারিখের দল থেকে চূড়ান্ত দলে যেতে পারেনি। না হলে যে দলটা ঘোষণা করলাম, এই দলের ১৫ জনই থাকত। সাইফউদ্দিনের জায়গায় এখন তানজিম সাকিব চলে এল।’
গত বিপিএলে তানজিম সাকিবের তুলনায় বেশ ভালো করেছেন চোট থেকে ফেরা সাইফউদ্দিন। শুধু বিপিএল নয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও উইকেট নেওয়ায় এগিয়ে ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। এই বছর টি-টোয়েন্টিতে ৪ ম্যাচে মাত্র ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব।। সে জায়গায় রান খরচে তাঁর কাছাকাছি থাকলো উইকেট নেওয়ায় অনেক সাইফউদ্দিন।
এ ব্যাপারে লিপুর ব্যাখ্যা, ‘উইকেট দেখেই করা যায় না। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। আপনি কখন, কোন অবস্থায় উইকেট পাচ্ছেন, কে কখন বোলিংয়ে আসছে এগুলো গভীরভাবে দেখতে হবে। আমাদের যে জায়গায় সাইফউদ্দিনকে দরকার হত সেই জায়গায় সে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে সেটাই পরখ করে দেখেছি।’
সাইফউদ্দিন শুধু দলেই জায়গা হারাননি। এমনকি স্ট্যান্ডবাই হিসেবেও জায়গা পাননি তিনি। এক্ষেত্রেও উইকেট বা অন্য সব পরিসংখ্যানে সাইফউদ্দিনকে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবু হাসানকেই বেছে নিয়েছেন নির্বাচকেরা। কেন?
‘তানজিম সাকিব ও সাইফউদ্দিনের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। বাকি ৩ জন কনফার্ম ছিল। বাকি ৩ জনকে রিপ্লেস করতে হলে আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল হাসান মাহমুদ। দুর্ভাগ্যবশত তাকে রিজার্ভ ক্রিকেটার হিসেবে রাখতে হচ্ছে। আশা করছি তাকে লাগবে না, লাগলে লাগতেও পারে।’- ব্যাখ্যা প্রধান নির্বাচকের।