আইপিএলে কোহলিদের পক্ষে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত, তুমুল বিতর্ক

মাঠের আম্পায়ার দিলেন আউট, কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার দিলেন নট আউট। তা-ও একটা এলবিডাব্লিউ নিয়ে, যেখানে বল ব্যাটে লেগেছে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে গেছে ধারাভাষ্যকারদেরও।

আইপিএলে আজ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে এলিমিনেটরে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পক্ষে আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে অনেক। সিদ্ধান্তটার সুবিধা পাওয়া ব্যাটসম্যান দীনেশ কার্তিক।

টস জিতে বেঙ্গালুরুকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় রাজস্থান। কোহলির ২৪ বলে ৩৩, রজত পাতিদারের ২২ বলে ৩৪ আর মাহিপাল লোমররের ১৭ বলে ৩২ রানের সৌজন্যে বেঙ্গালুরু ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ১৭২ রান। জবাবে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে রাজস্থান ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে করেছে ৯৮ রান।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল যা-ই হোক, কার্তিকের এলবিডাব্লিউ থেকে বেঁচে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা নিয়ে বিতর্ক হবেই। বেঙ্গালুরুই জিতে গেলে বিতর্কটা আরও বেশি হবে, নিশ্চিত।

ঘটনাটা বেঙ্গালুরু ইনিংসের ১৫তম ওভারে। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলেই পাতিদারকে আউট করে দেন আভেশ খান, এর পরের বলেই বিতর্কিত সে সিদ্ধান্ত! আভেশের ইনসুইঙ্গার কার্তিকের প্যাডে লাগলে এলবিডাব্লিউর আবেদন ওঠে, আম্পায়ার আউট দেন। রিভিউ নেন কার্তিক।

রিপ্লেতে দেখা গেল, বল যখন কার্তিকের পায়ে লাগছে, তখন কার্তিকের ব্যাটের নিচের অংশটা কার্তিকের সামনে বাড়ানো পায়ের খুব কাছেই ছিল। তবে বল ব্যাটে লেগেছে কি লাগেনি, সেটা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। আলট্রা এজে একটা স্পাইক দেখা গেলেও সেটা কি বল ব্যাটে লাগার কারণে নাকি ব্যাটের নিচের অংশ প্যাডে লাগার কারণে, সেটা দেখে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার উপায় ছিল না।

এমন ক্ষেত্রে আম্পায়ারের সিগন্যালের, অর্থাৎ আউটের সিদ্ধান্তই মেনে নেওয়ার কথা বেশিরভাগ তৃতীয় আম্পায়ারের। তবে এ ম্যাচের টিভি আম্পায়ার অনিল চৌধুরী মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে নট আউট ঘোষণা করে দেন।

এ নিয়ে ধারাভাষ্যকাররাও বলছিলেন, তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটাকেই ভুল বলে মনে হচ্ছিল তাঁদের কাছে। রাজস্থানের ক্রিকেট পরিচালক, শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারাকে তখন বেশ  উত্তেজিত ভঙ্গিতে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

কার্তিককে আউট দেওয়া হলে সে সময়ে বেঙ্গালুরুর রান দাঁড়াত ৬ উইকেটে ১২২। সে সময়ে ১ বলে ০ রানে আউট হওয়ার মুখে থাকা কার্তিক অবশ্য বেশি কিছু করতে পারেননি, শেষ পর্যন্ত ১৩ বলে করেছেন ১১ রান। তবে লমররের সঙ্গে তাঁর জুটিতে ২৪ বলে ৩২ রান পায় বেঙ্গালুরু।