সাড়ে ৪৬ কোটি রুপির আইপিএলে কে কত জিতলেন

গতকাল ফাইনালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের উড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের আইপিএল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি একদিকে যেমন ছিল মর্যাদার লড়াই, তেমনি ছিল অর্থপ্রাপ্তিরও।

চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন দর্শকেরা, কিন্তু ম্যাচে সেটার ছিটেফোঁটাও দেখা মেলেনি। পুরো ফাইনালকে একপেশে বানিয়ে আট উইকেটে জিতে তৃতীয়বারে মতো আইপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে কলকাতা।

স্বাভাবিকভাবে সবচেয়ে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি অর্থপ্রাপ্তিও হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এবারের আইপিএলের দলগুলোর জন্য মোট ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছিল বিসিসিআই। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দশটি দলকে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এ অর্থ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

আইপিএলের প্রথম মৌসুমে (২০০৮ সালে) চ্যাম্পিয়ন প্রাইজমানি ছিল ৪.৬ কোটি রুপি। ১৭তম মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স এবার পেয়েছে ২০ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অবশ্য শুধু মিচেল স্টার্ককে কিনতেই ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপি ব্যয় করেছে কলকাতা। 

এবারের রানার্স-আপ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হাতে উঠেছে ১২.৫ কোটি রুপি। এছাড়া প্লে-অফ খেলা রাজস্থান রয়্যালস ৭ কোটি রুপি (তৃতীয় দল হিসেবে) ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু পেয়েছে ছয় কোটি রুপি।    

গতকালের ফাইনালে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মিচেল স্টার্ক। ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার। শুরুতে উইকেট তুলে হায়দরাবাদের মনোবল ভাঙতে বড় অবদান রাখা স্টার্কের হাতেই উঠেছে ফাইনালের ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এজন্য ৫ লাখ রুপি পেয়েছেন তিনি। এছাড়া ফ্যান্টাসি প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হিসেবে আরও এক লাখ রুপি পেয়েছেন স্টার্ক।

কেবল স্টার্ক নয়, ফাইনালে ব্যক্তিগত সবগুলো পুরস্কারই উঠেছে কলকাতার খেলোয়াড়দের হাতে। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি (১৩টি) ডট বলের জন্য হার্ষিত রানা পেয়েছেন ১ লাখ রুপি। এছাড়া ফাইনালে সবচেয়ে বেশি (৫টি) চারের জন্য রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং সবচেয়ে বেশি (৩টি) ছক্কার জন্য ভেঙ্কটেশ আইয়ারও পেয়েছেন ১ লাখ রুপি। ম্যাচে ২৬ বলে ৫২ রান করে ইলেকট্রিক স্ট্রাইকার অব দ্য ম্যাচ হয়ে আরও ১ লাখ রুপি জিতেছেন ভেঙ্কটেশ।

এবারের আইপিএলে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন সুনীল নারাইন। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ৪৮৮ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৭ উইকেট নিয়ে মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট) জিতেছেন এ ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনবার এ পুরস্কার জিতলেন নারাইন। এছাড়া ফ্যান্টাসি ইলেভেনের মৌসুম সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। দুটি পুরস্কার মিলিয়ে ২০ লাখ রুপি পেয়েছেন নারাইন।

এবারের মৌসুমে ৭৪১ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান শিকারির পুরস্কার অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছেন বিরাট কোহলি। সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপ জিতেছেন পাঞ্জাব কিংসের হারশাল প্যাটেল। দুজনেই ১০ লাখ রুপি করে পেয়েছেন। এছাড়া টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচের জন্য রামানদ্বীপ সিংও জিতেছেন ১০ লাখ রুপি।

রানবন্যার এ আইপিএলে ফাইনালে রানখরা দেখা গিয়েছে। এর অন্যতম কারণ হায়দরাবাদের দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা শুরুতেই আউট হয়েছেন। তবে পুরো মৌসুম জুড়ে ব্যাটিং তাণ্ডব চালানোর স্বীকৃতি পেয়েছেন হেড। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি (৬৪টি) চারের জন্য হেড ও সর্বাধিক (৪২টি) ছক্কার পুরস্কার পেয়েছেন অভিষেক। দুজনেই জিতেছেন ১০ লাখ করে রুপি।

এ মৌসুমে অন্তত ১০০ রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের জেইক ফ্রেজার ম্যাগার্ক। অস্ট্রেলিয়ান মারকুটে এ ব্যাটসম্যানের নামের পাশে ৩৩০ রান, সেটাও ২৩৪ স্ট্রাইকরেটে! এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য আরও ১০ লাখ রুপি জিতেছেন ম্যাগার্ক।

এবারের উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যান নিতিশ কুমার রেড্ডি। এজন্য ১০ লাখ রুপি জিতেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে ৩৩.৬৭ গড় ও ১৪২.৯২ স্ট্রাইকরেটে ৩০৩ রান করেছেন ২১ বছর বয়সী এ তরুণ।

নিতিশ কুমারের দল হায়দরাবাদ ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতে পেয়েছে ১০ লাখ রুপি । মৌসুমের সেরা মাঠ ও সেরা উইকেট নির্বাচিত হয়েছে তাদের মাঠ রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম। এজন্য হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে ৫০ লাখ রুপি পুরস্কৃত করা হয়েছে।