মাঝে ঋষভ পন্তের ব্যাটে ভারত কিছুক্ষণ দাপট দেখিয়েছে। তবে নিউইয়র্কে আজ এর আগে-পরে যা দাপট দেখিয়েছেন পাকিস্তানের পেসাররাই। নাসিম শাহ সিমের ওপর জোরে বল ফেলে ইনিংসজুড়েই ভুগিয়েছেন ভারতের ব্যাটসম্যানদের, পন্তদের দাপট শেষ করে ভারতের ১৫০ পেরোনোর আশা শেষ করে দিয়েছে ইনিংসের মাঝপথে আমিরের ক্রস-সিম বোলিং।
টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প নেই - এমন ম্যাচে শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১১৯ রানেই অলআউট করে দিয়েছে পাকিস্তান।
ভারতের হয়ে পন্ত ৩১ বলে ৪২ রান করলেও আর কেউ ২০-এর বেশিই করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেছেন চারে নামা অক্ষর প্যাটেল। এর বাইরে দুই অঙ্কেই যেতে পেরেছেন শুধু রোহিত শর্মা।
পাকিস্তানের হয়ে নাসিম ৪ ওভারে ২১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। শেষ দিকে হারিস রউফ এসে পান্ডিয়ার উইকেটসহ ৩ উইকেট নিয়েছেন। আমির ২ উইকেট নিয়েছেন ২৩ রানে।
তবে বোলিং দারুণ করলেও ফিল্ডিংয়ে বেগড়বাই করে ফেলেছে পাকিস্তান। এক পন্তেরই চারটি ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। আর গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে হলো নাটক - কোনো রানই যেখানে হয় না, সেখানে দুই ওভারথ্রোতে দুই রান দিয়েছে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ভারত ১২০-এর নিচেই আটকে যাওয়ায় ওসব হয়তো অত পাত্তা পাচ্ছে না।
বৃষ্টিভেজা দিনে পিচে শুরুতে বল পড়ে অনেক ধীরগতিতে এসেছে। কোহলি আর রোহিত সেটিরই শিকার হয়ে ১৯ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে গেলেন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অফ সাইডে ড্রাইভ করতে গিয়ে গতির হিসেবের মারপ্যাঁচে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে দেন কোহলি। আর রোহিত আউট হলেন শাহিনের করা পায়ের ওপরের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে বলের গতির তারতম্যে ধরা খেয়ে, ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ।
চারে অক্ষরকে নামিয়ে পাকিস্তানকে ধাঁধায় ফেলতে চেয়েছিল ভারত। দুটি কারণ হতে পারে। শাহিন আফ্রিদি ডেথ ওভারে তেমন বল করেন না, কিন্তু তাঁর বাঁহাতি পেস – অন্য প্রান্তে আরেক বাঁহাতি মোহাম্মদ আমিরও ছিলেন – তাই তাঁদের সামনে ডানহাতি সূর্যকুমারকে পাঠাতে চায়নি ভারত। দ্বিতীয় কারণ, বল ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে আরেকটু সহজভাবে ব্যাটে আসবে বলে অনুমান, তখন দুই হিটম্যান সূর্যকুমার আর ঋষভ পন্তকে ক্রিজে দেখতে চাওয়ার কারণেই কি না, অক্ষরকে তখন পাঠিয়ে সূর্যকুমার-পান্ডিয়াকে রেখে দিল ভারত।
পরিকল্পনা অনেকটা কাজেও এসেছে। পন্ত শুরুতে ধুঁকছিলেন, কিন্তু অন্য দিকে অক্ষর পেটাতে শুরু করেন। চার ওভারে ২৪ রান পাওয়া ভারত পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষ হতে হতে ফিফটি করে ফেলল।
অষ্টম ওভারে নাসিমের বলে অক্ষর বোল্ড হয়ে গেলেও ততক্ষণে আবার পন্তের নাচুনি শুরু হয়ে গেছে। হারিস-ইমাদকে দ্রুত চারটি চার মেরে ছন্দে ফেরারও আভাস দিচ্ছিলেন পন্ত। ১১ ওভারেই ভারতের রান হয়ে যায় ৮৯/৩, তখন ১৫০-র পরিকল্পনা আঁটছিল ভারত।
কিন্তু এরপরই খেলায় মোড়! ১২তম ওভারে সূর্যকুমার আউট হারিসের খাটো লেংথের বলে, পরের ওভারে শিভাম দুবে আউট নাসিমের বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর ১৫তম ওভারে খেল দেখালেন আমির।
ইনিংসের শুরুতে পিচে পড়ে বল নিচু হয়ে আসার সময়ে সোজা সিমেই বল করেছেন, তবে মাঝপথে পিচ অনেকটা ব্যাটসম্যানের জন্য সহজ হয়ে এসেছে দেখে বল করতে শুরু করেন ক্রস সিমে। ব্যাটসম্যানের জন্য বলের গতিতে হেরফেরের চেষ্টা দারুণ কাজে এল। ওভারের প্রথম বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে আউট পন্ত, পরের বলে ফরোয়ার্ড ডিফেন্সিভ শট খেলতে গিয়েই গতির ফারাকে আগে ব্যাট চালিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৯৬/৫ থেকে ভারত চোখের পলকে ৯৬/৭।
পান্ডিয়া এরপর যা হুমকি হতে পারতেন পাকিস্তানের জন্য। তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, নয়ে নামা আর্শদীপকে স্ট্রাইক দিয়ে তিনি শেষ তিন ওভারকে 'টার্গেট' করছেন। কোথায় কী! ১৮তম ওভারে প্রথম বলে চার মেরে, প্রথম তিন বলে ছয় রান নিয়ে চতুর্থ বলেই হারিসের আরেক খাটো লেন্থের বলে ক্যাচ দিয়ে শেষ পান্ডিয়ার লড়াই।