টি-টোয়েন্টিতে আগের ৮ বারের দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে একবারও হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। গতকাল নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে বহুল প্রতীক্ষিত সুযোগটা এসেছিল নাজমুল হোসেন শান্তদের সামনে। কিন্তু জমে ওঠা ম্যাচের শেষ দিকের নাটকীয়তায় তীরে এসে তরি ডোবে বাংলাদেশের। প্রোটিয়াদের ১১৩ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরে যায় ৪ রানে।
অথচ ম্যাচটা বাংলাদেশের হাতেই ছিল। আম্পায়ারের দুটি সিদ্ধান্ত ভিন্ন রকম হলে ম্যাচটা জিততেও পারত বাংলাদেশ। যে তাওহীদ হৃদয়-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত দুটিই ছিল এ দুজনের বিরুদ্ধে। ম্যাচ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো রাখঢাক রাখেননি তাওহীদ হৃদয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘বলার কিছু নেই’ তাঁর।
ইনিংসের ১৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তখন ৪ উইকেটে ৮৭ রান। জয়ের জন্য শেষ ২৪ বলে ২৭ রান দরকার। ১৭তম ওভারে ওটনিল বার্টম্যানের দ্বিতীয় বলটি মাহমুদউল্লাহর প্যাডে লেগে বাউন্ডারি হয়ে যায়। কিন্তু তার আগেই প্রোটিয়াদের আবেদনে এলবিডাব্লিউ দেন আম্পায়ার স্যাম নগাজস্কি।
মাহমুদউল্লাহ রিভিউ নিলে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছে। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদল করে মাহমুদউল্লাহকে নট আউট দেন। কিন্তু আগে আউট দিয়েছিলেন বলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সেই ৪ রান যোগ হয়নি বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।
ওই চার রান পেলে শেষ ২২ বলে বাংলাদেশের দরকার হত ২২ রান। কিন্তু সেটি না পাওয়ায় সমীকরণ থাকে ২৬ রানে। শেষ দিকের নাটকীয়তায় বাংলাদেশ ম্যাচটা হারে ঠিক চার রানেই। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলেছেন হৃদয়।
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, সিদ্ধান্তটা ভালো ছিল না। আঁটসাট ম্যাচে আমাদের জন্য ভালো কিছু ছিল না সেটি। আমার মতে, আম্পায়ার আউট দিয়েছেন, তবে আমাদের জন্য কঠিন ছিল। ওই চারটি রান পেলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। আর কিছু বলার নেই।’
ক্রিকেটের এই নিয়মটা পরিবর্তন করা উচিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেছেন, ‘নিয়ম তো… আইসিসি কী করেছে, এটা তো আমার হাতে নেই। কিন্তু ওই সময় ওই চারটি রান খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য।’
কেবল ওই সিদ্ধান্ত নয়, আম্পায়ারের আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন হৃদয়, ‘আমি মনে করি যে, আম্পায়ার কল দিয়েছেন, আম্পায়ার কল দিতেই পারেন। ওরাও মানুষ, ভুল হতেই পারে। কিন্তু আরও দু-একটি ওয়াইড ছিল, যেগুলো ওয়াইড দেয়নি। এখানে এরকম ভেন্যুতে খেলা, যেখানে রান হচ্ছে না, লো-স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে, সেই জায়গায় একটি-দুটি রানও অনেক বড় ব্যাপার।’
মাহমুদউল্লাহ-হৃদয় জুটি যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলেন, ম্যাচে ভালোভাবেই টিকে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১৮তম ওভারে কাগিসো রাবাদার প্রথম বলে আম্পায়ার এলবিডাব্লিউ আউট দেন হৃদয়কে। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান রিভিউ নিলে দেখা যায়, কোনো রকমে লেগ স্ট্যাম্পে লাগছে বল। অর্থাৎ আম্পায়ার্স কলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরতে হয় ৩৪ বলে ৩৭ রান করা হৃদয়কে। অথচ তখন জয়ের জন্য ১৮ বলে ২০ রানের সমীকরণ ছিল বাংলাদেশের সামনে।
আম্পায়ার হৃদয়কে আউট না দিলে রিভিউ নিয়ে কাজ হতো না প্রোটিয়াদের। সংবাদ সম্মেলনে এটি নিয়েও কথা বলেছেন হৃদয়। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে আরও উন্নতির জায়গা আছে আইসিসি-এমসিসির।
হৃদয় বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ওই চারটি রান বা দুটি ওয়াইড, খুব ক্লোজ কল ছিল। এমনকি আমার আউটও আম্পায়ার্স কল ছিল। আমার কাছে মনে হয়, এই জায়গাগুলোয় উন্নতির সুযোগ আছে। আইসিসি যে নিয়ম করেছে, এটায় তো আমাদের হাত নেই। আমার মনে হয়, যেটা হয়েছে, হয়ে গেছে।’