নাজমুল হোসেন শান্ত আর লিটন দাসকে নিয়ে কথাগুলো গত কিছুদিনে কতবার যে শোনা গেছে, তার হিসেব রাখাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। কোনোভাবেই যেন ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না দুজন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আজ মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও ব্যতিক্রম হলো না!
শান্ত ‘প্রি-মেডিটেইটেড’ রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন দ্বিতীয় ওভারে। চতুর্থ ওভারে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়ার মূল্য দিলেন লিটন। ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচটা অবশ্য দুর্দান্ত হয়েছে। শান্ত ও লিটন দুজনই ফিরেছেন ১ রান করে।
তবে ওপেনিং নেমে প্রথম ওভার দেখেশুনে পার করার পর থেকে আগ্রাসী তানজিদ হাসান তামিম অসাধারণ কিছু শটে বাংলাদেশের রানের গতি বাড়িয়েছেন। আর বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য এখন পর্যন্ত দারুণ স্বস্তির খবর, লিটন আউট হওয়ার পর নেমে তামিমের চেয়েও বেশি আগ্রাসন দেখাচ্ছেন সাকিব আল হাসান!
এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে তামিম ৩৫ রান করে আউট হয়ে গেলেও সাকিব ব্যাট করছেন ২৭ বলে ৩৮ রানে। বাংলাদেশ ১২ ওভারে ৩ উইকেটে তুলেছে ৮৯ রান।
বাংলাদেশের টপ অর্ডারে তিন বাঁহাতি, ওদিকে তিনি পাওয়ার প্লে-তে বোলিংয়ে অভ্যস্ত – নেদারল্যান্ডস আজ তাই একাদশে অফ স্পিনার আরিয়ান দত্তকে নিয়েছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসা আরিয়ানের প্রথম বলটা দেখেশুনে খেলেছেন বটে শান্ত, পরের বলেই আউট। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে সাধারণ কাভার ড্রাইভই করতে পারতেন, কিন্তু আগে থেকে ভেবে রেখেছিলেন বলেই কিনা, শান্ত গেলেন রিভার্স সুইপ করতে। বলে-ব্যাটে হলো না ঠিকমতো, স্লিপে ক্যাচ তুলে বিদায় শান্তর।
প্রথম দুই ওভার বাংলাদেশ দেখেশুনেই কাটিয়ে দিল, এর মধ্যে শান্তর উইকেট হারিয়ে রান উঠল মাত্র ৫। কিংমার করা তৃতীয় ওভারে শুরু হলো তামিমের আগ্রাসন। প্রথম বলটা বাতাসের বিপরীতে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলেই দিয়েছিলেন, তবে ত্রিশ গজের বাইরে নিরাপদ জায়গায় পড়ায় বেঁচে গেলেন তামিম, এল ২ রান। এরপর ওভারের বাকি পাঁচ বলের চারটিই বাতাসের অনুকূলেই খেললেন – তাতে অফ সাইডে দুটি চার, একটি ছক্কা, আর একটি প্রায় চার হতে হতে বাউন্ডারিতে ফিল্ডার আটকানোয় হলো ২ রান। মাঝে পঞ্চম বলে অবশ্য হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল লাগল তামিমের হেলমেটে, আটকেই গেল হেলমেটের গ্রিলে! ওভারে এল ১৮ রান।
কিন্তু চতুর্থ ওভাএর শুরুতেই আবার ধাক্কা! আরিয়ান দত্তর বলটা মারার মতোই ছিল, লিটন সুইপও করেছিলেন। কিন্তু একটু আগেভাগে, শরীর থেকে বেশি দূরে রেখেই শটটা খেলে ফেললেন বুঝি! টাইমিং হলো না, শরীর থেকে দূরে থাকায় শরীরের নিয়ন্ত্রণ ঠিক ছিল না বলে ব্যাটে-বলে সংযোগের সময়ে ব্যাট নড়ে গেল। ক্যাচ উঠে গেল বাতাসে। কিন্তু কী দারুণ ক্যাচই না নিলেন এঙ্গেলব্রেখট! কেন তাঁকে এক সময় জন্টি রোডসের উত্তরসূরি বলা হতো, সেটি বোঝালেন স্কয়ার লেগে অনেকটা দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে নেওয়া ক্যাচে! লিটন বিদায় নিলেন ১ রান করে।
তবে এরপর কিছুক্ষণ বাংলাদেশ ইনিংসের দারুণ সময়ই গেল। আরিয়ানের ওভারে শুধু তামিমের একটা চারে ৭ রানই এল। পরের ওভারে ফন মিকেরেনকে ‘অন দ্য আপ’ ড্রাইভে সাকিবের প্রথম বাউন্ডারিতে ওভারে এল ৫ রান। এর পরের ওভারে দেখা মিলল আগ্রাসী সাকিবের।
আগের দুই ম্যাচে ব্যাটে-বলে ব্যর্থতায় প্রশ্নবিদ্ধ সাকিব আজ ম্যাচের আগেও নেটে অনুশীলন করেছেন। হেড পজিশন নিয়ে সমস্যা ঠিক করতেই কিনা, সে সময়ে ঘাড়ে ব্রেইস পরে অনুশীলন করছিলেন। এরপর ক্রিজে নেমেই শুরু করলেন পিটুনি!
পাওয়ার প্লে-র শেষ, অর্থাৎ ষষ্ঠ ওভারে ফন মিকেরেনকে চারটি চার মারলেন, প্রথম দুটি অনেকদিন পর সাকিবকে চেনানো কাট শটে, ওভারের শেষ দুই বলে একটি ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট ফাইন লেগের ওপর দিয়ে, শেষ বলে সেই পুরোনো লেট কাট! ১৯ রান এল ওভারে, পাওয়ার প্লে-তে বাংলাদেশ পেল ৫৪ রান। পরের ওভারে তামিম দুই চারে বাস ডি লিডিকে স্বাগত জানালেন বোলিংয়ে।
তবে এরপর আবার আরিয়ান দত্ত এসে রানের গতি থামিয়ে দিলেন। অষ্টম ওভারে এল ৪ রান। সেই ছন্দপতনেই কি না, পরের ওভারে ফন মিকেরেনকে বাতাসের বিপরীতে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন তামিম। ২৬ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৩৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি।
তাওহীদ হৃদয় নেমে এখনো ছন্দ খুঁজে পাননি। সাকিবও মাঝে একটু বিরতি দিয়েছেন, তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে প্রিঙ্গলকে একটা চার মেরেছেন পুল করে।