টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তারা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে হট ফেবারিট হিসেবেই টুর্নামেন্টে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু গ্রুপ পর্বে জস বাটলারদের প্রথম ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় স্কটল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইংলিশদের। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছেও হেরে বসেন বাটলাররা।
অন্যদিকে স্কটল্যান্ড পরের দুটি ম্যাচ জেতায় তিন ম্যাচে তাঁদের পয়েন্ট দাঁড়ায় পাঁচ। আবার তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে ইংল্যান্ড। এমন শঙ্কার মেঘ মাথায় নিয়ে ওমানের বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। ‘দুর্বল’ ওমানকে পেয়ে রীতিমতো জমে থাকা সব রাগ ঝেড়েছে বাটলারের দল।
আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ওমানকে মাত্র ৪৭ রানে অলআউট করেছে ইংল্যান্ড। স্বল্প রান তাড়ায় যা হওয়ার কথা, সেটাই হয়েছে। ওমানের রান পেরিয়ে যেতে বাটলারদের লেগেছে মোটে ১৯ বল। ৮ উইকেটের বড় জয়ে সুপার এইটে যাওয়ার আশা ভালোভাবেই বাঁচিয়ে রাখল ইংল্যান্ড।
গতকাল ১০১ বল হাতে রেখে পাওয়া ইংল্যান্ডের জয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বলের হিসেবে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। আরেক রেকর্ডটি ছিল শ্রীলঙ্কার। ২০১৪ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৯০ বল হাতে রেখে জিতেছিল লঙ্কানরা।
এবারের টুর্নামেন্টে ইংলিশদের এটাই প্রথম জয়। সে জয়ে নেট রানরেটটা ভালোমতোই বাড়িয়ে নিয়েছেন বাটলাররা। সুপার এইটের দৌড়ে স্কটিশদের নেট রানরেট ছাড়িয়ে যেতে গতকাল ৫.২ ওভারে জিততে হতো ইংল্যান্ডকে। কিন্তু বাটলাররা তার আগেই (৩.১ ওভারে) কাজটা সেরে নিয়েছেন।
যদিও ৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে স্কটল্যান্ড, কিন্তু গতকালের জয়ে রান রেটে স্কটিশদের (২.১৬৪) চেয়ে এগিয়ে গেছেন বাটলাররা (৩.০৮১)। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ড খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, অন্যদিকে নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
গতকাল স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরু থেকে ইংলিশ বোলিং তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ওমান। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ২৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট নেই ওমানের। জফরা আর্চার-মার্ক উডের সামনে রীতিমতো সংগ্রাম করছিলেন ওমান ব্যাটসম্যানরা। ইংলিশ দুই পেসারই নিয়েছেন সমান তিনটি করে উইকেট।
কেবল পেস নয়, আদিল রশিদের স্পিনও সামলাতে পারেননি ওমান ব্যাটসম্যানরা। ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে ওমানকে গুটিয়ে দেওয়ার শেষ কাজটা করেছেন ডানহাতি লেগস্পিনার।
ওমানের পক্ষে দুই অঙ্কে যেতে পেরেছেন কেবল একজন ব্যাটসম্যান। আর্চারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগে শোয়াইব খান ২৩ বলে করেছেন ১১ রান। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন (৪৭) রানে অলআউট হয় ওমান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের প্রথম দুই বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই আউট হয়ে যান ওপেনার ফিল সল্ট (৩ বলে ১২ রান)। তিনে নামা উইল জ্যাকসও (৭ বলে ৫ রান) উইকেটে থিতু হতে পারেনি। তবে বাটলার ও জনি বেয়ারস্টোর কল্যাণে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে জয়ের দেখা পায় ইংলিশরা।
বাটলার ৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে বেয়ারস্টো ২ বলে ৮ রান করেছেন।