এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ৮ রানে আউট হওয়ার পর বল হাতে ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়েও উইকেটশূন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পারফরম্যান্স আরও হতশ্রী। ব্যাটিংয়ে ৩ রান করার পর বল হাতে করলেন মোটে ১ ওভার। তাতেও নেই উইকেটের দেখা। সাকিবের এমন মলিন পারফরম্যান্সে চারদিকে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
কেবল বিশ্বকাপের এ দুই ম্যাচে নয়, সাকিবের পারফম্যান্সের গ্রাফ অনেকদিন ধরেই নিম্নমুখী। টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ১৯ ইনিংসে কোনো ফিফটির দেখা নেই। দেশসেরা অলরাউন্ডার তিনি, অথচ টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ম্যাচসেরা হয়েছেন প্রায় তিন বছর আগে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার বীরেন্দর শেবাগ তো বলেই দিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া উচিত সাকিবের।
চারদিকে যখন এত সমালোচনার ঝড়, সেটিতে উড়িয়ে দিতে নেদারল্যান্ডস ম্যাচকে বেছে নিলেন সাকিব। গতকাল ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। ৪৬ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়েছেন। বল হাতে উইকেট না পেলেও বাংলাদেশের জয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। সমালোচনার জবাব এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবিক জানালেন, কাউকে উত্তর দেওয়ার জন্য খেলেন না তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য শেবাগকে নিয়ে প্রশ্নটা হতেই সাকিবের পাল্টা প্রশ্ন এল - 'হু?' সমালোচনাকারীর নামটা যে শেবাগ সেটা সম্ভবত প্রথমবারে বুঝতে পারেননি সাকিব। এরপর শেবাগের সমালোচনার কথা শুনে উত্তরে সাকিব বলেছেন, ‘আমি কাউকে উত্তর দেওয়ার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমার মনে হয়, ক্রিকেট খেলায় ব্যাটসম্যানদের কাজ ব্যাটিং করা, রান করা। বোলারদের কাজ উইকেট নেওয়া। ফিল্ডারদের কাজ ভালো ফিল্ডিং করা, ক্যাচ নেওয়া। এখানে আসলে কাউকে উত্তর দেয়ার কিছু নেই।’
সাকিবের মতে, ভালো পারফর্ম না করলে সমালোচনা হবেই। সেটাকে খারাপভাবে দেখেন না বাংলাদেশি অলরাউন্ডার, ‘একজন খেলোয়াড়ের কাজ দলের হয়ে অবদান রাখা। সেটা যখন রাখতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই কথা হবে এবং আমি মনে করি, সেটা খুব খারাপ কিছুও না।’
টানা হতশ্রী পারফরম্যান্সেও চিন্তায় ছিলেন না সাকিব। জানতেন, তাঁর দিনও আসবে, ‘নিজেরটা (অফ ফর্ম) নিয়ে কখনই চিন্তিত ছিলাম না। আমার ক্যারিয়ারে মনে করি না কখনও এমন চিন্তা করেছি। দলের জন্য যদি অবদান রাখতে পারি সেটা ভালো লাগে। যেটা বললাম, আজকে হয়তো আমার দিন ছিল, সামনের ম্যাচে হয়তো অন্য কারও দিন আসবে।’