লিটন-শান্তরা নিজ পায়ে মারলেন কুড়াল, নেপালের সামনে বাংলাদেশ বেহাল

তানজিদ হাসান তামিম - ১ বলে ০। ইনিংসের প্রথম বলে গেলেন ডাউন দ্য উইকেটে। সোমপালের ১৩০ কিমির বেশি গতির বলে এগিয়ে গিয়ে টাইমিং ঠিক রাখতে পারলেন না। সোমপালের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। গোল্ডেন ডাক!

নাজমুল হোসেন শান্ত - ৫ বলে ৪। ফর্মে না থাকা ব্যাটসম্যানের যে ব্যাট আর প্যাডের, এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এ দুইয়ের মধ্যকার ফাঁকের হিসাব থাকে না, তার প্রমাণ দিয়ে হলেন বোল্ড। দেবেন্দ্রর ফুল লেংথের ঝুলিয়ে দেওয়া বল তাঁর ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে অফ স্টাম্প নাড়িয়ে দিল।

লিটন দাস - ১২ বলে ১০। ফর্মের খবর নেই, অহমের কমতি নেই। রানখরা তো চলছেই, আজও ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চাভিলাষী শটে চাপ কমানোর চেষ্টা করে বারেবারেই আউট হচ্ছেন, তবু প্রতিবারই ভিন্ন কিছুর আশায় একই কাজ করে যান লিটন। আজও করলেন, ফল ভিন্ন হলো না। বল তুলে দিলেন আকাশে।

তাওহীদ হৃদয় - ৭ বলে ৯। ফর্মটা নিউইয়র্কে রেখে এসেছেন। আগের ম্যাচে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। আজ তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর নেমেই আগ্রাসী হতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন। সুইপ করতে গিয়ে আকাশপানে ওঠা ক্যাচটা অবশ্য শর্ট ফাইন লেগে ফিল্ডার লামিচানে ক্যাচটা ধরলেন দারুণভাবে।

কিংসটাউনে আজ নেপালের বিপক্ষে এই চারজনই আউট হয়ে গেছেন পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষ হওয়ার আগে। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে হৃদয় ফেরার সময় দলের রান তখনো ৩০।

তবে বাংলাদেশের দু:স্বপ্ন সেখানেই শেষ নয়। পাওয়ার প্লে-তে ৩১ রান পাওয়া বাংলাদেশকে পঞ্চম উইকেটে দুই সিনিয়র মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের জুটি উদ্ধার করার স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। দারুণ কয়েকটি বাউন্ডারিও মেরেছিলেন। কিন্তু নবম ওভারের শেষ বলে ভয়ংকর ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ (১৩ বলে ১৩)। এক্সট্রা কাভারে ঠেলে সাকিব রান নিতে দৌড় শুরু করেও পরে সিদ্ধান্ত বদলালেন, ততক্ষণে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে আবার ফেরত যাওয়ার আর উপায় ছিল না মাহমুদউল্লাহর। কী করে বসেছেন বুঝতে পেরেই কিনা, সাকিব তখন ক্রিজে বসে পড়লেন হেলমেটে হাত দিয়ে!

পিচে বল কিছুটা ধরে আসছে ঠিকই, তবে তা মোটেও ব্যাটিংকে দু:সহ করে তোলার মতো নয়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছেন। 

এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে ক্রিজে সাকিবের (১৭ বলে ১৫*) সঙ্গী জাকের আলী (৫ বলে ৪*)। ইনিংসের মাঝপথে, অর্থাৎ, ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ৫৭।