বাংলাদেশের শেষ হলো হারে, আফগানিস্তান শেষ চারে  

কত হিসাব-নিকাশ! বাংলাদেশকে এত রানে বা এত বলের মধ্যে জিততে হবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে, ওদিকে অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে…। অস্ট্রেলিয়ার হারের পর সমীকরণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো।

কিন্তু সমীকরণের সুবিধা নেওয়ার জন্য নিজেদের ম্যাচটা তো জিততে হবে। আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে আটকে দেওয়া বাংলাদেশ ১২.১ ওভারে রানটা তাড়া করতে পারলে সেমিফাইনালে উঠতে পারত। কিন্তু ওভারের হিসাব তো পরের কথা! সব শেষ হওয়ার পর লিটন দাস ছন্দে ফিরলেও অন্য প্রান্তে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-শান্ত-তানজিদদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ জিততেই পারল না!

বাংলাদেশকে ১০৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়া দুই দলকেই বাড়ি পাঠিয়ে দিল আফগানিস্তান। সুপার এইটে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরে শেষ হলো বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৮ রানের জয়ে আফগানিস্তান ইতিহাস গড়ে উঠল শেষ চারে। ২০০০ সালে পূর্ণ সদস্য দেশ হওয়া বাংলাদেশ যেখানে সুপার এইটে উঠেই বোনাস মানছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো উঠে সেমিফাইনালে!  

বারেবারে বৃষ্টিতে বাধা পাওয়া ম্যাচে শেষ পর্যন্ত এক ওভার কাটা পড়ায় ১৯ ওভারে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১১৪। ততক্ষণে অবশ্য ১৩ ওভার পেরিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের সেমিফাইনালের সমীকরণ শেষ। তখন শুধু আফগানিস্তানের বিপক্ষে হার এড়িয়ে, সুপার এইট থেকে অন্তত একটা জয় নিয়ে ফেরার সমীকরণ নিয়েই খেলছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু জয় পাওয়ার মতো ব্যাটিং লিটন ছাড়া আর কেউ করতে পারলে তো! তাওহীদ হৃদয় অবশ্য ১২.১ ওভারে রান তাড়া করার চাপের মুখে ৯ বলে ১৪ রান করেছেন, এর বাইরে লিটন ছাড়া কারও ব্যাটই কথা বলেনি। তানজিদ শুরুতেই ৩ বলে ০ রানে এলবিডাব্লিউ হয়ে গেছেন ফারুকির ভেতরে ঢোকা বলে। ৫ রান করা শান্ত শরীর থেকে দূরে রেখে মারতে গিয়ে নাভিন স্কয়ার লেগে কয়েক গজের ব্যবধানে যেখানে দুই ফিল্ডার রেখেছেন, সেখানেই বলটা উড়িয়ে মেরে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন।

সৌম্যকে আগের দুই ম্যাচে বসিয়ে আফগানিস্তানের স্পিনের বিপক্ষে এমন পিচে নামার যে অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, সেটা যে হঠকারী, তা প্রমাণ করে গেল সৌম্যর ব্যাটিং। রশিদ-নবীদের সামনে পানি থেকে উঠিয়ে ফেলা মাছের মতো তড়পাতে তড়পাতে ১০ রান করে আউট হয়েছেন সৌম্য।

তবে বাংলাদেশের আজ ইনিংসের মাঝপথেই সমীকরণ থেকে ছিটকে যাওয়ার দায়টা বেশি পড়বে দুই সিনিয়র সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ওপর। সাকিব তো আগের ম্যাচের মতো আজও গ্লান্স করতে গিয়ে আউট, ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল সোজা বোলারের হাতেই ক্যাচ! ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ২৩/৩ বানিয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরেছেন সাকিব।

আর মাহমুদউল্লাহ? এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষদিকে একটা ছক্কা মেরে ‘ফিনিশার’ উপমা পেয়ে গেলেও মূলত পুরো টুর্নামেন্টে টুকটুক ব্যাটিংই করে গেছেন। আজও তা-ই করলেন। বাংলাদেশের যখন সমীকরণটা একেবারে অসম্ভব হয়ে যায়নি – ২৫ বলে ৫৪ থেকে ১৯ বলে ৪৩ বা ১৩ বলে ৩৯ রানের সমীকরণে ছিল বাংলাদেশ, মাহমুদউল্লাহ ৯ বলে একটি বাউন্ডারিসহ ৬ রান করে আউট হয়ে গেছেন। সে সময়ে রশিদ-নবীদের প্রতি ওভারে ৩-৪ রান করে পেয়েছে বাংলাদেশ।  

শেষ পর্যন্ত লিটন ৪৯ বলে ৫৪ রান করলেও শেষদিকে তিনিও হিসেবে ভুলই করে ফেললেন। ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে যখন সঙ্গী তাসকিন, ডাগআউটে ছিলেন শুধু আর মোস্তাফিজ…লিটন বারবার সিঙ্গেল নিয়ে নন-স্ট্রাইকে চলে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারে আর স্ট্রাইকে ফেরা হলো না লিটনের। ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিন প্লেইড অন হলেন নাভিন উল হকের বলে, পরের বলে এলবিডাব্লিউ মোস্তাফিজ। লিটন পড়ে রইলেন নন-স্ট্রাইকে।

আফগানিস্তান ফেটে পড়ল উল্লাসে। যে উল্লাস তাদেরই মানায়।