‘বিশ্বাসঘাতক’ থেকে ভারতের বিশ্বকাপের নায়ক তিনি

বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কিনা তা নিয়ে ছিল সংশয়। ভারতের অনেক সাবেক ক্রিকেটার তো অফ ফর্মে থাকা এই ক্রিকেটারকে দলে নিতেই বারণ করে দিয়েছিলেন। সমর্থকদের কাছে পেয়েছিলেন বিশ্বাসঘাতক তকমা। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের অধিনায়কত্ব পেয়ে ধুঁকছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া।

ব্যাট-বল দু'দিকেই ছিলেন অফ ফর্মে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের অধিনায়ক রোহিতকে সরিয়ে পান্ডিয়ার অধিনায়ক হওয়ার গল্প সবারই জানা। মাঠে খেলতে নেমে কটাক্ষের শিকার হওয়া প্রতিনিয়ত রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২২ গজের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তো চারিদিকে পান্ডিয়াকে বিশ্বাসঘাতকের তকমা দিয়ে দেয় মুম্বাইয়ের সমর্থকরা।

আইপিএলে মুম্বাইয়ের হয়ে তাঁর নেতৃত্বে ১০টি হারের পর অনেকে ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিসংখ্যানও তার পক্ষে কথা বলেনি। ১৪ ম্যাচে ১৮ গড়ে মাত্র ২১৬ রান, ১০ ইকোনমিতে মাত্র ১১ উইকেট -সবমিলিয়ে আইপিএলে ব্যর্থ পান্ডিয়াকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বাইরে দেখেছিলেন অনেকেই।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যাকে তাদের পরবর্তী অধিনায়ক ভাবছিল তার এমন পারফরম্যান্স নির্বাচকদের অগ্নিপরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু অধিনায়ক রোহিত শর্মা ভরসা রেখেছিলেন পান্ডিয়ার ওপর। 

পান্ডিয়াকে বিশ্বকাপ দলে সহ অধিনায়ক করে নিউইয়র্কের বিমানে উঠেছিল ভারত। সেদিন পান্ডিয়ার দলে থাকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।

বিশ্বকাপে এসে অন্য রকম এক পান্ডিয়ার দেখা মিলল। প্রস্তুতি ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ঝড়ো ৪০ রানের ইনিংসে জানান দিয়েছিলেন ভিন্ন কিছু করতেই বিশ্বকাপে এসেছেন। বার্বাডেজে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার আগে ৭ ম্যাচে ১৩৯ রান ও ৮ উইকেট নিয়ে ভারতের ট্রাম্প কার্ডে নিজেকে পরিণত করেন।


ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে শেষদিকে ২ বলে করেন ৫রান। ১৭৭রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল তখন অধিনায়ক রোহিত শর্মা ১৭তম ওভারে ভরসা রাখেন সেই পান্ডিয়ার কাঁধে। 

২৪ বলে ২৬ রান প্রয়োজন এমন সমীকরণের সামনে ২৭ বলে ৫২ রান করা বিধ্বংসী হেনরি ক্লাসেনকে ফেরান পান্ডিয়া। ১৭তম ওভারে ৪ রান দিয়ে ভারতকে শিরোপার লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন। 

শেষ ওভারে ১৬ রানের প্রয়োজন দক্ষিণ আফ্রিকার, অধিনায়ক রোহিতের ও পুরো ভারতের সেই সময়ের আস্থার একমাত্র নাম সেই পান্ডিয়ার হাতে আবারো বল। প্রথম বলেই ফেরালেন ডেভিড মিলারকে, সঙ্গে সঙ্গে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে মেতে উঠে। শেষ বলে  সমীকরণ দাঁড়ায় ৯ রান, পান্ডিয়া দিলেন ১ রান। ভারত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তিনি। 

বিশ্বকাপ জয়ের পর অশ্রুসিক্ত পান্ডিয়া।

ক্রিকেটে শেষ বলে যে কিছু নেই তা ভারতকে ১৭ বছরের অভিশাপ মোচন করে আবারো জানান দিলেন পান্ডিয়া। যিনি এক মাস আগেও ভারতীয় সমর্থকদের বিশ্বাসঘাতক তকমা পেয়েছিলেন, আজ সেই পান্ডিয়াই বনে গেলেন ভারতের মহানায়ক। 

১১বছরের আইসিসি শিরোপার খরা কাটাল ভারত, সেই সঙ্গে টানা নবম বিশ্বকাপ খেলার পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন রোহিত শর্মা।