বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসান মাঠে এবং মাঠের বাইরে বিভিন্ন কারণে আলোচনার কারণ। আবারও আলোচনায় সাকিব। সাবেক অধিনায়কের কাছ থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি পাওনার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার গতকাল সংসদ সদস্যের পদ হারিয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে উঠে এসেছে চমকে দেয়ার মতো তথ্য।
২০১৬ সালে সাতক্ষীরা উপকূলের দাতিনাখালি এলাকায় সড়কের ধারে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান গড়েছিলেন একটি কাকড়া খামার। যার নাম ছিল সাকিব আল হাসান এগ্রো ফার্ম।
সেই ফার্ম নিয়েই এখন গুরুতর অভিযোগ এসেছে। দেশের একটি গণমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাকিবের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা এক কোটিরও বেশি টাকা পান।
প্রতিবেদলে বলা হয়েছে, হ্যাচারির জন্য সফট সেল কাকড়া নিলেও সে টাকা এখনো পরিশোধ করেননি সাকিব আল হাসান। তার কাছে কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন এক পাওনাদার।
প্রতিবেদনে জুলফিকার আলী নামে এই ব্যবসায়ীর কথা বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁরা কাকড়া দিয়ে মাস শেষে টাকা নিতেন। হিসাব রাখত সাকিবের খামারের দায়িত্বরত ম্যানেজার। এভাবে তাঁর প্রায় তিন মাসের টাকা দেওয়া হয়নি। সাকিবের কাছে তাঁর পাওনা ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাকিব ও বন্ধুসহ মোট চারজন খামারটি করেছিলেন। মেমোতেও সাকিবের নামই ছিল।
জুলফিকার আলী বলেন, ‘২০২১ সালে খামারটি বন্ধ হওয়ার পর নানাভাবে আমরা চেষ্টা করেছি টাকা আদায় করতে। তবে কোনোভাবেই আদায় করতে পারিনি। বছরখানেক আগে মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে গিয়েছিলাম তাঁর বাবার কাছে। আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। তারপর থেকে বিষয়টি সেভাবেই আছে। টাকা পাব, তার মেমো বা প্রমাণপত্র এখনো রয়েছে।’
জুলফিকার আলী আরও বলেন, ‘গুরু দাস হার্ড কাকড়া দিতেন সাকিবের খামারে। ৩০ লাখ টাকা বাকি ছিল। গুরু দাস, আমিসহ ৪-৫ জন সাকিবের বাড়িতে গিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে সাকিবের বাবা খারাপ ব্যবহার করে বের করে দেওয়ার পর মন খারাপ করে আমরা ফিরি। গুরুদাসের ব্যবসা ভালো যাচ্ছিলো না। অন্যরা তার কাছে টাকা পাবে। এদিকে সাকিবের কাছে পাওনা টাকাও পাচ্ছিল না। এই সব নিয়ে চিন্তায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান গুরুদাস। আমরা ১৩-১৪ জন এখনো সব মিলিয়ে কোটি টাকারও বেশী পাব। আমরা আমাদের পাওনা টাকা ফেরত চাই।‘
সাকিবের বিরুদ্ধে এমন ব্যবসায়ীদের আরও অনেক অভিযোগ দেখা গেছে সেই প্রতিবেদনে। এই অলরাউন্ডার এখন দেশের বাইরে থাকায় এই ব্যাপারে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে সাকিবের পাকিস্তান সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। সরকার পতন হওয়ায় সংসদ সদস্যের পদ হারিয়েছেন সাকিব। গুঞ্জন রয়েছে, দেশে না ফিরেই সরাসরি কানাডা থেকে পাকিস্তান যাবেন সাকিব।