কী ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছেন ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের আটটি জেলার লাখ লাখ মানুষ! হঠাৎ ধেয়ে আসা এ বন্যায় মানুষ, গৃহপালিত পশু-পাখিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে অবর্ণনীয় কষ্ট করতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। শুধু তো বন্যার এই সময় নয়, বন্যা শেষে তাঁদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে বলে অনুমান করে নেওয়া যায়।
দেশের মানুষের এমন কষ্টে কার না মন কাঁদবে! বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও সে কষ্টের কথা জানিয়েছেন ফেসবুকে।
ব্যাটসম্যান তাওহীদ হৃদয় লিখেছেন, ‘কী লিখব? কী লেখা উচিত? নিজেকে অসহায় মনে হয় যখন সরাসরি দেশের কোনো দুর্যোগে পাশে থাকতে পারি না। বন্ধুদের পাঠিয়েছি, ওরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। তবে আমার কষ্ট লাগছে, যতটুকুই করা হবে, তা কী যথেষ্ট? তবু করতে হবে, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
বানের এই ঢল নেমে গেলেও যে কাজ শেষ হয়ে যাবে না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন হৃদয়, ‘…শুধু এখন না, পানি নেমে যাওয়ার পর পর্যন্ত বন্যার্তদের পাশে থাকতে হবে। নৌকা, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার যে যেভাবে পারেন। ব্যাপার না। আমরা জন্ম থেকেই সংগ্রাম করতে জানি, এবারও করব। আল্লাহ এ যাত্রায়ও আমাদের রক্ষা করবেন ইনশা আল্লাহ। দুর্যোগ ঘটে গেছে, এখন পুরো বাংলাদেশ মিলে তা মোকাবিলা করার সময়। বসে থাকার সুযোগ নেই, সবাই নিজের সাধ্যমতো এগিয়ে আসি।’
রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দলে আছেন পেসার শরীফুল ইসলাম। সেখান থেকেই ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজা–বা ইন্না-মুমিনুন।’ ‘হে আমাদের রব, আমাদের থেকে আজাব দূর করুন; নিশ্চয় আমরা মুমিন হব।’ [সুরা আদ-দুখান: ১২] হে আল্লাহ, বন্যাকবলিত মানুষের প্রতি সহায় হোন, আমিন।’
জাতীয় দলের মতো বাংলাদেশ ‘এ’ দলও এই মুহূর্তে পাকিস্তানে সফর করছে। সেখানে পাকিস্তান শাহীনসের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের বাংলাদেশ দলে আছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়। তিনিও ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দেশের বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি। পুরা ফেনী তলিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক কিছুই নেই। দুয়েক ঘণ্টা পরে ফেনীর ভেতর থেকে আর কোনো খবর মোটেও পাওয়া যাবে না। বন্যার্ত মানুষের আর্তনাদ দেখে নিজেকে কোনোভাবেই শান্ত রাখতে পারছি না। এই দুর্যোগ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আল্লাহর রহমতে আমরা অচিরেই এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব ইনশা আল্লাহ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার একে অপরকে সহযোগিতা করা৷ আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক।’
জাতীয় দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেন প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের দিক থেকে হঠাৎ বাঁধ খুলে দেওয়া নিয়ে, ‘এত পানি কোথা থেকে এল, কেনইবা গভীর রাতে সব গেট খুলে দিল। এই অসহায় গরিব দেশ কি এই প্রশ্নের উত্তর কোনো দিনই জানবে না?’
জাতীয় দলের আরেক ক্রিকেটার নুরুল হাসান নিজের পোস্টে বন্যাকবলিত এলাকার এক শিশুর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই ছবি দেখার পর নিজেরে সম্পূর্ণ অসহায় লাগতেছে। আল্লাহ দয়া করে তাদের এই পরিস্থিতিতে সাহায্য করুন।’