১৬ দফা দাবি ক্রিকেটারদের, আশার কথা শোনাল বিসিবি

১৬টি দাবির লম্বা এক লিস্ট। তা নিয়ে আজ মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে হাজির দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটারদের একটি দল। কী নেই সে দাবিতে! তবে দাবিগুলোর বেশিরভাগকেই যৌক্তিক জানিয়ে বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম শুনিয়েছেন আশার কথা।  

ঘরোয়া ক্রিকেটে টুর্নামেন্টের সূচি বা ক্যালেন্ডার প্রকাশ ও সেটি মেনে চলা, জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রতিটি ক্লাবের দ্বিতীয় সারির একটি দল নিয়ে জাতীয় লিগের দ্বিতীয় সারির আয়োজনের দাবি এসেছে। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্ট আর তিন দিনের ম্যাচের তিনটি ভিন্ন লিগের কথা এসেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের পাশাপাশি একটি করে টি-টোয়েন্টি লিগেরও আয়োজনের দাবি উঠেছে। তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট প্রতি বছর একই সময়ে আয়োজন ও সেখানে সর্বনিম্ন এন্ট্রি ফি নির্ধারণ, প্রতি জেলায় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজনসহ অনেক দাবি এসেছে।

এর পাশাপাশি প্রতি লিগের সেরা তিন খেলোয়াড়কে বেতনভুক্ত করা, ক্রিকেটারদের চুক্তির ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প পেপারে সই করে সেটি দুই পক্ষের কাছেই রাখার ব্যবস্থা, ক্লাবগুলোর আরও পেশাদার হওয়ার অনেক দাবিও এসেছে। বিসিবির নিবন্ধিত খেলোয়াড় চোটে পড়লে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব যাতে বিসিবিই নেয়, সে কথাও লেখা আছে দাবিনামায়। খেলোয়াড়দের সংগঠন কোয়াবকে ঢেলে সাজানোর দাবিও এসেছে।

এছাড়া খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা জেলায় জেলায় বাড়ানোর দাবি উঠেছে। পাশাপাশি আম্পায়ারিং ও মাঠের মান উন্নয়ন, প্রথম বিভাগের খেলার সরাসরি সম্প্রচারের কথা বলেছেন ক্রিকেটাররা। বিসিবির চুক্তিবদ্ধ কোচরা যাতে ব্যক্তিগতভাবে কোনো ক্লাবে কাজ করার সুযোগ না পান সে দাবিও উঠেছে।

দাবিগুলো নিয়ে প্রথম বিভাগের খেলোয়াড় রিয়াজুল রিয়াদ বলেছেন, ‘অনেক দিন ধরেই অনিয়ম হয়ে আসছে। যদি বিসিবি আশাবাদ ব্যক্ত করে, তাহলে আমরা আশা করছি দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।’ আরেক ক্রিকেটার রিয়াজুর বলেছেন, ‘আমরা বিসিবিকে প্র্যাকটিসের সুযোগ–সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলে এসেছি। দেখেন, যখন বিপিএল খেলা হয়, তখন একই একাডেমি মাঠে ছয়-সাতটা দল অনুশীলন করে। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চাইলে কিন্তু এমন পাঁচটা একাডেমি করতে দিতে পারে বিভিন্ন জায়গায়। যদি মাঠের সংখ্যাও বাড়ে, তাহলেও আলহামদুলিল্লাহ।’

এসব দাবির বেশিরভাগকেই যৌক্তিক জানিয়ে বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড কী করলে আমার লাভ হবে বা তোমার লাভ হবে, সেটা নয়…কী করলে ক্রিকেটের লাভ হবে, এখন সেটা দেখা দরকার। সেটার জন্য যা যা করা দরকার, ক্রিকেট বোর্ড সামর্থ্য অনুযায়ী সেই জিনিসটা করবে।’

তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘জেলা ক্রিকেট চালু করা, জেলা পর্যায়ে একটা উইকেট থাকা শুরু করে প্লেয়ারদের ওয়েলফেরার…প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কথা যদি বলি, সিস্টেমেটিক্যালি সবখানে যেন ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ট্যালেন্ট আইডেন্টিফিকেশনের জন্য সবাই যেন সমান সুযোগ পায়, এসব ব্যাপার অবশ্যই ক্রিকেট বোর্ড দেখবে। আমরাও চোখ রাখব।’

সব দাবি এখনই পূরণ সম্ভব হবে না জানিয়েও নাজমুল আবেদিন পরে বলেছেন, ‘তোমরা ক্রিকেট খেলে যেন নিজেদের মেধাকে প্রেজেন্ট করতে পারো, নিজেদের মেধা অনুযায়ী যেন মূল্যায়ন হয় (সেটা দেখা হবে)। তোমাদের সব দাবি হয়তো এখনই পূরণ করা সম্ভব না–ও হতে পারে। তবে আমাদের ইচ্ছা থাকবে তোমরা তো বটেই, যেন ক্রিকেটও লাভবান হয়।’