আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাধিকবার সিরিজ স্থগিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। রশিদ খানদের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে প্রায়ই বড় দলগুলোর অনীহা দেখা যায়। যার পেছনে অন্যতম কারণ আফগানিস্তানে মেয়েদের ক্রিকেট ও তাঁদের প্রতি তালেবান সরকারের আরোপ করা বিধিনিষেধ।
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা এদিক থেকে উল্টো পথে হাঁটছে। জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ছেলেদের দলের সঙ্গে তারা আরও সিরিজ খেলতে চায়।
এই মুহূর্তে শারজাতে আফগানিস্তানের সঙ্গে তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এটিই দুই দলের মধ্যে প্রথম কোনো সিরিজ। গতকাল শারজাতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে লজ্জার হারের মুখে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে সিএসএ-র আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ খেলতে চাওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনার উত্তর দিতেই সিএসএ আজ বিবৃতিটি দিয়েছে। যেখানে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা জানিয়েছে, ‘মেয়েদের ক্রিকেটে সমান স্বীকৃতি ও সম্মান প্রাপ্য, তবে তাদের দেশের (আফগানিস্তান) সরকারি নীতির কারণে আফগানিস্তানের ছেলেদের ক্রিকেটকে একতরফাভাবে বিচ্ছিন্ন করবে না সিএসএ।’
বিবৃতিতে অবশ্য সিএসএ জানিয়েছে, আফগানিস্তানের মেয়েদের ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করাকে তারা সমর্থন করে না। তবে সেটি জানিয়েও লিখেছে, ‘সিএসএ মনে করে, কোনো এক লিঙ্গের (দলকে ঘিরে সিদ্ধান্তের) কারণে আরেক লিঙ্গের দলকে বঞ্চিত করে লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করা যায় না। আমরা এটা মানি যে, একটি লিঙ্গের (মেয়েদের) অগ্রগতির পক্ষে সমর্থন দেওয়া মানে অন্য লিঙ্গের (পুরুষদের) অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা নয়। সিএসএ বিশ্বাস করে যে তালেবানদের কর্মকাণ্ডের জন্য আফগান ক্রিকেট খেলোয়াড়দের - ছেলে এবং মেয়ে উভয় দলকেই নিপীড়নের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির সঙ্গে এই বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করব।’
২০২১ সালে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার মেয়েদের ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকেই আফগানিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দূরত্ব তৈরি হয়।
আফগানিস্তানে মেয়েদের ক্রিকেটকে সমান গুরুত্ব না দেওয়া ও তাদের অধিকার নিশ্চিত না করায় একাধিকবার আফগানিস্তানের ছেলেদের দলের বিপক্ষে সিরিজ স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের এমন আচরণের কারণে মাঝে এক মৌসুম অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিগ ব্যাশে খেলেননি রশিদ খান। তাতেও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড তাঁদের অবস্থান বদলায়নি।
অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকে রশিদ খানদের সঙ্গে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আফগানিস্তানের জন্য বড় সুখবর বলা চলে।