পাকিস্তান পথ দেখিয়েছিল, ভারত সে পথ ধরেই ভুগিয়েছে বাংলাদেশের বাঁহাতিদের

০.৬। এবং প্রথম ওভারেই ভারত স্কোরবোর্ডে ছাপ রাখল। বুমরা বোলিংয়ের কোণ বদলে ফেললেন, অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে এলেন এবং অফ স্টাম্পে আঘাত করার মতো লেংথে বল ফেললেন। এর আগের (ওভার দ্য উইকেট থেকে) ডেলিভারিগুলো ছিল আউটসুইঙ্গার, হয়তো সাদমান এটিকেও তেমনই হবে বলে ভেবেছিলেন। ভেবেছিলেন তিনি লাইন কাভার করতে পারবেন, সে কারণে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেছেন। কিন্তু এই বলটা সোজা গিয়ে অফ স্টাম্পের মাথায় আঘাত হানল।

৮.১। দুর্দান্ত ডেলিভারি এবং আকাশও স্কোরবোর্ডে নাম লেখালেন। সাইটস্ক্রিন নিয়ে জাকিরের কিছু সমস্যা হচ্ছিল, তাই তাঁকে (আকাশ) প্রথম দফায় দৌড়ে এসেও ফিরতে হয়েছিল। পরেরবার দৌড়ে এসে বলটাকে ফেললেন এমন জায়গায় যেখান থেকে সেটা কোনাকুনিভাবে অফ স্টাম্পের দিকে ঢোকে। জাকির ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরাস্ত হলেন এবং তাঁর মিডল স্টাম্প উপড়ে গেল।

প্রসঙ্গত, আকাশ শুরু থেকেই অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে বল করছিলেন বাঁহাতিদের।

এর পরের বলে একই ঢংয়ে বোল্ড হলেন মুমিনুল হক। কিছুক্ষণ পর সিরাজের ওবল সিমে ধরা খেয়ে গেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, সিরাজও বল করছিলেন অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে।   

এবার কদিন আগের রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ফিরে যান। লিটন দাসের দারুণ সেঞ্চুরি আর মেহেদি হাসান মিরাজের ফিফটিতে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সেদিন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এর আগে ২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। আজ ভারতের বিপক্ষে ইনিংসের মতোই তো অবস্থা – আজ ৪০ রানে পড়ে ৫ উইকেট। কিন্তু আজ আর লিটন ‘লিটন’ হতে পারেননি, ষষ্ঠ উইকেটে তাঁর সঙ্গে ফিফটি ছাড়ানো জুটি গড়া সাকিবও হতে পারেননি ‘মিরাজ।’

সেটা তো পরের ব্যাপার। বারেবারে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ভেঙে পড়ার প্রসঙ্গে ফেরা যাক। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেদিনও প্রথম পাঁচ উইকেটের পতনের দৃশ্যে একটা ব্যাপার কমন – সেদিনও ডানহাতি পেসার খুররম শেহজাদ বারেবারে অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে এসে অফ স্টাম্প-মিডল স্টাম্পের ওপর বা চতুর্থ-পঞ্চম স্টাম্পে বল করেছেন, আর বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের উইকেট পড়েছে টপাটপ!