শ্রীলঙ্কা সফরে এসে প্রথম টেস্টে তবুও স্বাগতিকদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পেরেছিল নিউজিল্যান্ড। গলে সে ম্যাচটা হেরেছিল ৬৩ রানে। একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে যেন খেলাটাই ভুলে গেল কিউইরা!
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দুই দিনের প্রায় পুরোটা জুড়ে নিউজিল্যান্ড বোলারদের খাটিয়ে মেরেছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। টিম সাউদি-মিচেল স্যান্টনারদের ক্লান্ত বানিয়ে ১ম ইনিংসে ১৬৩.৩ ওভার ব্যাটিং করে ৫ উইকেটে ৬০২ রানের পাহাড় গড়ে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।
জবাবে ১ম ইনিংসে দ্বিতীয় দিনের শেষ ভাগে ১৪ ওভার খেলার সুযোগ পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তাতে ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছিল তারা। কিন্তু হাতে থাকা ৮ উইকেট নিয়ে আজ তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের পুরোটাতেই টিকে থাকতে পারেনি সফরকারীরা। ইনিংসের ৪০ ওভার পূরণ হওয়ার আগেই গুটিয়ে গেছে ৮৮ রানে!
এতে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও উঠেছে নিউজিল্যান্ডের নাম। প্রথম ইনিংস শেষে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে ৫১৪ রানে। টেস্ট ইতিহাসে প্রতিপক্ষের চেয়ে এর চেয়ে বেশি রানে মাত্র একবারই পিছিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। এর আগে ২০০২ সালে কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংস শেষে ৫৭০ রানের লিড নিয়েছিল পাকিস্তান। সব মিলিয়ে টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম বৃহত্তম লিড পেয়েছে লঙ্কানরা। বিশাল রানে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ফলো অন করিয়েছে লঙ্কানরা।
প্রথম ইনিংসের রেকর্ড গড়া কামিন্দু মেন্ডিসসহ তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ইনিংসের সর্বোচ্চ রান ২৯, সেটাও এসেছে নয় নম্বরে নামা মিচেল স্যান্টনারের ব্যাট থেকে। স্যান্টনার বাদে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন মোটে দুই জন।
প্রথম টেস্টের মতো এবারও নিউজিল্যান্ডকে ধসিয়ে দেওয়ার কারিগর প্রবাত জয়সুরিয়া, একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। এছাড়া নিশান পেইরিস ৩টি ও আশিথা ফেরনান্দো নিয়েছেন ১ উইকেট।
এ প্রতিবেদন লেখার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে নিউজিল্যান্ড। মধ্যাহ্নভোজের আগে ২ ওভার খেলার সুযোগ পেয়েছে সফরকারীরা। তাতে প্রথম ওভারেই ওপেনার টম ল্যাথামকে (০) হারিয়েছে তারা। প্রথম সেশন শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৩ রান। ইনিংস ব্যবধানে হার ঠেকাতে আরও ৫১১ রান দরকার কিউইদের।