সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন বাবর আজম। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতেই আবারও এ ব্যাটসম্যানের কাঁধেই নেতৃত্বের ভার সঁপে দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দ্বিতীয় দফায় শুধু সাদা বলের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) দায়িত্ব পান বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান।
তবে এবারও বেশিদিন টিকতে পারলেন না বাবর আজম। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মাথায় সাদা বলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বাবর আজম।
চলতি বছরের মার্চে দ্বিতীয় মেয়াদে বাবরের অধিনায়কত্ব নেওয়ার পরের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না বাবরের। এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতার (২-২) পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জিততে পারেনি (১-১ সমতা) পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের কাছেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে বসে ২-০ ব্যবধানে।
এ সময়ে পাকিস্তান সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। পুঁচকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হার দিয়ে শুরু করার পরের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছেও হেরে বসে পাকিস্তান। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় ঘটে বাবর আজমদের।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্টে সিরিজ হাতছাড়া করেছে পাকিস্তান। অবশ্য পাকিস্তানের লাল বলের নেতৃত্ব এখন শান মাসুদের কাঁধে। তবে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন বাবর। সব দিক মিলিয়ে সময়টা যেন পক্ষে যাচ্ছিল না এ মাসে ৩০ বছরে পা দিতে যাওয়া পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের। এমন অবস্থায় ব্যাটিংয়ে বাড়তি নজর দিতে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাবর।
টুইটার পোস্টে বাবর লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্তবৃন্দ, আমি আজ আপনাদের একটা সংবাদ জানাব। আমি পাকিস্তান ছেলেদের ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
নেতৃত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে বাবর লিখেছেন, ‘এ দলটাকে নেতৃত্ব দেওয়াটা ছিল দারুণ সম্মানের। কিন্তু এখন সময় (নেতৃত্ব থেকে) সরে দাঁড়ানোর এবং নিজের খেলার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার। নেতৃত্ব হয়তো ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা দেয়। কিন্তু এটা উল্লেখযোগ্যভাবে কাজের চাপও বাড়ায়। আমি আমার পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দিতে চাই, ব্যাটিংটাকে উপভোগ করতে চাই এবং পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে চাই, যা আমাকে আনন্দ দেবে।’
পোস্টের শেষ অংশে বাবর লিখেছেন, ‘পদত্যাগ করার মাধ্যমে আমি আমার আগামীর পথ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাব। পাশাপাশি আমার খেলা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে আরও জোর দেব। সবার অকুণ্ঠ সমর্থন এবং আমার প্রতি বিশ্বাস রাখার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের উৎসাহ আমার কাছে পৃথিবীর সমান। একসঙ্গে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটা নিয়ে আমি গর্বিত। একজন খেলোয়াড় হিসেবে দলের জন্য অবদান রাখতে চাই। সবার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’