‘যত তাড়াতাড়ি আউট করা যায়, তত ম্যাচ আমাদের হাতে থাকবে’ – কাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত অলআউট করার ইচ্ছা জানিয়ে বলেছিলেন তাইজুল ইসলাম। মিরপুরে সেটা আজ আর করতে পারল কই বাংলাদেশ!
হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ৩৪ রানে এগিয়ে থেকে দিন শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, এরপর বাংলাদেশের বোলাররা ওভারের পর ওভার করে গেছেন, তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরবোর্ডে রানের সংখ্যাই শুধু বেড়েছে, উইকেটের ঘর থেকে গেছে অপরিবর্তিত। মিনিট গেল, ঘণ্টা পেরিয়ে গেল, দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট আর পড়ে না!
অবশেষে ইনিংসের ৬৫তম আর দিনের ২৪তম ওভারে গিয়ে উইকেটের মুখ দেখল বাংলাদেশ। একটি নয়, উইকেট যখন পড়েছে, পরপর দুই বলেই টানা দুটি উইকেটই পড়েছে! তবে তার আগে কাইল ভেরেইনা আর উইয়ান মুল্ডার বাংলাদেশকে দেখালেন, বাংলাদেশেরই উইকেটে – মিরপুরের কালো ধীরগতির উইকেটে, বল পড়ে যেখানে নিচু হয়ে আসে এমন উইকেটে - কীভাবে ব্যাটিংটা করতে হয়।
বাংলাদেশ কাল যা করতে পারেনি, সেটাই করেছেন ভেরেইনা-মুল্ডার। বাংলাদেশ পুরো ইনিংসেই রান করেছে ১০৬, ভেরেইনা-মুল্ডারের সপ্তম উইকেট জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দিয়েছে ১১৯ রান! বাংলাদেশের বোলাররাও আজ খুব একটা লাইন-লেংথ ঠিক রেখে বোলিং করতে পারেননি, তারওপর মুল্ডার-ভেরেইনারা সুযোগও দেননি। একেবারে মারার বল ছাড়েননি, ভালো বল দেখেশুনে পার করে দিয়েছেন – বেসিক ক্রিকেট আর কী!
ফিফটি দুজনই পেয়েছেন। ১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা মুল্ডার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটি পেরিয়ে গেছেন। এরপর ৬৫তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গেছেন ৫৪ রান করে। বাংলাদেশের পুরো সকাল খাটাখাটনির পর আনন্দের উপলক্ষটা আরও বাড়ে পরের বলেই কেশব মহারাজের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে হাসান মাহমুদের ডেলিভারি অফ স্টাম্পে আঘাত হানায়।
তবে এখনো ভেরেইনা ক্রিজে আছেন বাংলাদেশের মাথাব্যথা হয়ে। ১৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভেরেইনা এখনো ব্যাট করে যাচ্ছেন। এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও লাঞ্চ ব্রেক হয়ে গেছে, ভেরেইনা ৭৭ রানে অপরাজিত। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে আছেন ডেইন পিট (৬*)। দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৭১ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৩। এরই মধ্যে তাদের লিড হয়ে গেছে ১৩৭ রান।