দিনের শেষ বেলা হলেও হয়তো একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যেত যে, দিন শেষের আগে শেষ বিকেলের আলোয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত উইকেট নিতে চেয়েছে বাংলাদেশ। দিন আরও দুটি বাকি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড অল্প রানের হলেও বোঝা যেত যে, বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দিতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ইনিংসে লম্বা সময় ব্যাট করতে হবে, সে ক্ষেত্রে ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, তাই ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।
এর কোনোটাই ঘটেনি। বাংলাদেশের উইকেট আর একটি বাকি ছিল, ক্রিজে ছিলেন দুই বোলার তাসকিন আহমেদ আর শরীফুল ইসলাম। বাকি থাকা উইকেটে খুব বেশি রান হবে না – এটাই হয়তো ধরে নিয়েছিল বাংলাদেশ দল। এই একটাই কারণ হতে পারে বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণার।
আসল কারণ কী, সেটা হয়তো আজ দিনের শেষে জানা যাবে। ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত কেমন কাজে লাগল, সেটা ঠিক করে দেবে আগামী দুই দিনে ম্যাচের গতিপথ। আপাতত বাংলাদেশ দলের সিদ্ধান্ত দেখে চুলকাতে থাকা মাথায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা শুধু এই তথ্যটুকু নিয়ে রাখতে পারেন যে, গতকাল তৃতীয় দিন শেষে যেখানে ছিল, ৯ উইকেটে ২৬৯ রান রেখেই আজ দিনের শুরুতে ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১৮১ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমেও গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের এই ম্যাচে টিকে থাকার দুরতম সম্ভাবনাও যা আছে, সেটাকে বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের অসাধারণ কিছুই করে দেখাতে হবে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে উইন্ডিজ ওপেনার মিকাইল লুইসকে (8) উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে সে কাজের ইঙ্গিত দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তবে আপাতত অতটুকুই।
এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে উইকেট আর পড়েনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান এই মুহুর্তে ১ উইকেটে ৩৩, লিড হয়ে গেছে ২১৪ রানের।
এর মধ্যে দুটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। তৃতীয় ওভারে তাসকিনের বলে প্রথম স্লিপে ক্রেইগ ব্রাথওয়েইটের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেছেন শাহাদাত হোসেন দীপু, সে সময়ে ব্রাথওয়েইটের রান ছিল ৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০। এর পরের বলেই লুইসকে এলবিডাব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ার পর বাংলাদেশ আর রিভিউ নেয়নি। কিন্তু পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে, রিভিউ নিলে সে সময়ে ১ রানে থাকা লুইসকে আউট করতে পারত বাংলাদেশ।