বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল। লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের ম্যাচটা নেমে আসে ১৬ ওভারে। কিন্তু রংপুর রাইডার্স ৯ ওভার ব্যাটিং করতেই আবারও বৃষ্টি নামে গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে। ততক্ষণে রংপুরের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৮৫ রান।
বৃষ্টি শেষে মাঠ খেলার উপযোগী হওয়ার পর আর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়নি রংপুর। ম্যাচের দৈর্ঘ্য আরও ছোট হয়ে নেমে আসে ৯ ওভারে। তাতে লাহোরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১১১ রান। কিন্তু সেটা আর তুলতে পারেনি পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নির্ধারিত ৯ ওভার ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ৮৭ রানে থামে লাহোরের ইনিংস। বৃষ্টি আইনে ২৩ রানের জয়ে রংপুর উঠে যায় গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালে।
অথচ এ টুর্নামেন্টে রংপুরের শুরুটা হয়েছিল টানা দুই ম্যাচ হেরে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হ্যাম্পশায়ারে কাছে সুপার ওভারে হারার পর অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ভিক্টোরিয়ার কাছেও হেরে বসে বাংলাদেশের দলটি। তবে তৃতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে গায়ানার বিপক্ষে জয় তুলে নেন নুরুল হাসান সোহান-সৌম্য সরকাররা। এরপর আজ লাহোরকে হারিয়ে পেয়ে যায় ফাইনালের টিকেট। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৫ টায় একই ভেন্যুতে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভিক্টোরিয়ার মুখোমুখি হবে রংপুর।
আজ অঘোষিত সেমিফাইনালে রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নামা লাহোরকে শুরুতেই দুঃস্বপ্ন উপহার দেন শেখ মেহেদী। বাংলাদেশি স্পিনারের প্রথম ওভারে মাত্র ১ রানেই ৩ উইকেট হারায় লাহোর। মেহেদীর ওভারের তৃতীয় বলে রান আউট হন অ্যাডাম রসিংটন। মেহেদীর পরের বলে লুক ওয়েলসকে স্ট্যাম্পিং করেন উইকেটকিপার নুরুল হাসান। ওভারের পঞ্চম বলে মোহাম্মদ ফাইজানকে বোল্ড করেন বাংলাদেশি স্পিনার।
সেখানেই থেমে থাকেননি মেহেদী। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে মোহাম্মদ আখলাকের উইকেটটাও শিকার করেন। মেহেদীর এমন বোলিং তোপে বিধ্বস্ত হওয়া লাহোর এ ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি। শেষ দিকে মির্জা তাহির ২০ বলে ৩১, টম অ্যাবেল ১২ বলে ২৫ আর ফাহিম আশরাফ ৯ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেললেও সেসব শুধু পরাজয়ের ব্যবধানাই কমিয়েছে।
রংপুরের হয়ে ২ ওভারে ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী। এছাড়া জ্যাক চ্যাপেল ১৭ রানে ২টি ও কামরুল ইসলাম ২২ রানে ১টি উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সৌম্য সরকারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভালো সূচনা পেয়েছিল রংপুর। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান ১৩ বলে ২২ রান করে আউট হলেও বৃষ্টি নামার আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি দলটি। সাইফ হাসান ২৭ রানে (১৪ বল) ও স্টিভেন টেলর ৩২ রানে (২৭ বল) অপরাজিত ছিলেন।