দুশ্চিন্তার নাম টপ অর্ডার

হিসেবটাই আট দেশের, সেখানেও বাংলাদেশ নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল আগামীকালের মধ্যেই হয়ে যাওয়ার কথা, আগামীকালই যে দল ঘোষণার শেষ দিন। তবে তার আগে বাংলাদেশ দলের নির্বাচকদের মাথাব্যথার শেষ নেই!

তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শোনা গিয়েছিল গত কিছুদিনে, কিন্তু দুজনকে দুই ভিন্ন কারণে পাওয়া যাচ্ছে না। তামিম নিশ্চিত করে দিয়েছেন, তিনি অবসর নিয়েছেন। আর সাকিব বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দ্বিতীয়বার দিয়েও পাশ করতে পারেননি বলে আজই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছে বিসিবি।

কিন্তু এর বাইরেও কী মাথাব্যথা কম! দলের ব্যাটিং অনেকদিন ধরেই ছন্দে নেই, স্পিন বোলিংও ওয়ানডেতে খুব একটা ভালো করছে না। পেসাররা দারুণ করছেন, সেখানে আবার জায়গার বিপরীতে দাবিদার অনেক!

তবে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথাটা সম্ভবত দলের টপ অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে। ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণ যে জানাচ্ছে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে যাওয়া আট দলের মধ্যে গত দুই বছরে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের চেয়ে বাজে পারফরম্যান্স আছে শুধু একটা দলের। অবিশ্বাস্যভাবে সেই দলটার নাম অবশ্য ইংল্যান্ড।

বাংলাদেশের টপ অর্ডারের এমন পরিসংখ্যান তো হওয়ারই কথা। না হলে কি প্রায় দেড় বছর আগে বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বশেষ ম্যাচটি খেলা তামিম ইকবালকে দেখতে চাওয়ার এত আবেদন ওঠে! তামিমের বদলে ২০২৩ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে নিয়মিত তানজিদ হাসান তামিম এখনো ধারাবাহিক হয়ে উঠতে পারেননি। ক্যারিয়ারের শুরুর মানিয়ে নেওয়ার সময় এখনো চলছে তাঁর।

গত দুই বছরে বাংলাদেশসহ অন্য দলগুলোর টপ অর্ডারের পারফরম্যান্স। ছবি: স্ক্রিনগ্র্যাব

তবে তানজিদের চেয়েও বড় হতাশা সম্ভবত অন্য দুই সিনিয়র খেলোয়াড় লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। ব্যাটিং ব্যাকরণের বিচারে সৌন্দর্যে সবাইকে বিমোহিত করলেও লিটন দাস অদ্ভুতভাবে বাজে সময় যেন কাটিয়েই উঠতে পারছেন না। ২০২৪ সালে ৫ ওয়ানডে মিলিয়ে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৬ রান। যে কারণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে তিনি না-ও থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যায়!

সৌম্য মাঝেমধ্যে জ্বলে উঠলেও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এই ৩০ পেরিয়েও এখনো অধারাবাহিক! ওপেনিংয়ের বাইরে তিনে মূলত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তই খেলেছেন। কিন্তু গত বছর দেড়েকে তাঁর ফর্মও তথৈবচ!

ক্রিকইনফো ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১ থেকে ৩ – ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডারের কাছ থেকে বাংলাদেশ গত দুই বছরে (১০ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে) ৪১ ম্যাচে ১১৯ ইনিংসে পেয়েছে মাত্র ৩২৮১ রান। গড় ২৯.২৯! এই সময়ে টপ অর্ডারের কাছ থেকে মাত্র ৪টি সেঞ্চুরি আর ২০টি ফিফটি দেখেছে বাংলাদেশ।

রানের হিসেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে শুধু ইংল্যান্ড। ২০২৩ বিশ্বকাপ থেকেই ওয়ানডেতে খুব একটা ভালো করতে না পারা ইংল্যান্ড এ সময়ে তুলেছে ৩২০২ রান। তবে গড়ের হিসাব করলে ইংল্যান্ড অবশ্য বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়েই থাকে - তারা এ রান তুলেছে ৩২ ম্যাচে ৯৬ ইনিংসে। গড় ৩৩.৭০।

সবার ওপরে ভারত। তাদের টপ অর্ডার এ সময়ে ৩৮ ম্যাচে ১১২ ইনিংসে তুলেছে ৫৩০৭ রান। দুইয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা টপ অর্ডারের কাছ থেকে ১৪৯ ইনিংসে পেয়েছে ৫০৭৪ রান। ১১১ ইনিংসে ৪৩৩০ রান নিয়ে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার আছে তিন নম্বরে।