আগের ১৬ বছর যা হয়নি, সেটাই দেখা গেল এবার

আইপিএলের প্রথম মৌসুমের কথা। ২০০৮ সালের ২১ মে চিপকের এমএ চিদম্বরমে খেলতে গিয়ে চেন্নাই সুপার কিংসকে ১৪ রানে হারিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এরপর থেকে চিপক যেন হয়ে ওঠে দুর্বোধ্য এক গোলকধাঁধা, যেটার সমাধান কোনোভাবেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না বিরাট কোহলিরা।

পরের ১৬ বছর চেন্নাইয়ে যতবার খেলতে গিয়েছে, প্রতিবারই হার নিয়েই ফিরতে হয়েছে বেঙ্গালুরুকে।

অবশেষে ৬১৫৫ দিন পর চেন্নাই দুর্গ জয় করেছে বেঙ্গালুরু। গতকাল শুক্রবার আইপিএলের ম্যাচে চেন্নাইকে ৫০ রানে হারিয়েছেন রজত পাতিদর-কোহিলরা। চিপকে আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ১৯৬ রান তুলেছিল বেঙ্গালুরু। এরপর রান তাড়ায় নামা চেন্নাইকে আটকে দেয় ১৪৬ রানে।

বেঙ্গালুরুর কাছে ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে হারার পর চেন্নাই কোচ ফ্লেমিং জানিয়েছেন, এখন আর ঘরের মাঠে বাড়তি সুবিধা বলে কিছু নেই। ঘরের মাঠের উইকেটের চরিত্র ঠিকমতো বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন ফ্লেমিং।

আইপিএলে বর্তমান নিয়মানুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ১৪ ম্যাচের ৭ ম্যাচ ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পায় দলগুলো। আর হোম ম্যাচে উইকেট থেকে বাড়তি সুবিধা আদায়ও নতুন নয়। তবে ফ্লেমিং জানিয়েছেন, চিপকে সেটা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

ম্যাচ শেষে চেন্নাই কোচ বলেছেন, ‘আমি বেশ কয়েক বছর ধরেই বলছি যে, চিপকে কোনো হোম অ্যাডভান্টেজ নেই। গত কয়েক বছর ধরে আমরা উইকেট ঠিকমতো পড়তেই পাচ্ছি না। সুতরাং, এটা (চেন্নাইয়ের পিচের ভিন্ন আচরণ) নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন যে রকম পরিস্থিতি থাকে, তা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করি আমরা।’

ফ্লেমিং পরক্ষণেই বলেন, ‘এটা সেই চিপক নয়, যেখানে আপনি চার স্পিনারকে মাঠে নামিয়ে দেবেন। প্রতিটি পিচের চরিত্র বুঝতে আমাদের বিস্তর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এটা একেবারে ভিন্ন।’

চেন্নাই কোচ আরও জানান, তারা ভেবেছিলেন, শিশিরের প্রভাবে দ্বিতীয় ইনিংসে বল স্কিড করতে পারে। এ প্রসঙ্গে ফ্লেমিং বলেছেন, ‘আমরা উইকেট ঠিকমতো বুঝতে পারিনি। উইকেট পড়া খুবই কঠিন ছিল। ভেবেছিলাম শিশির পড়লে বল স্কিড করবে। কিন্তু এটা অনেকটা আঠালো হয়ে গেছে। ফলে কাজটা (রান চেজ করা)কঠিন হয়ে যায়।’