৫৯ বলে ১০ চার ৭ ছক্কায় ১০৩ – তামিম বাকিদের জন্য রাখলেন কেবল ২৭ রান

লক্ষ্য ছিল মোটে ১৩০ রান। পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের এ রান তাড়া করতে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের যে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না, সেটা অনুমেয়ই ছিল। তাই বলে পারটেক্সকে এভাবে উড়িয়ে দেবে রূপগঞ্জ? বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে পারটেক্সকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে রূপগঞ্জ, সেটাও ইনিংসের ১৮৯ বল হাতে রেখে।

রূপপঞ্জের বিশাল জয়ের নায়ক দলটির ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। স্বল্প রান তাড়াতেও সেঞ্চুরি আদায় করেছেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। পারটেক্সের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫৯ বলে ১০ চার আর ৭ ছক্কায় ১০৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন তামিম। আরেক ওপেনার সাইফ হাসান অপরাজিত ছিলেন ২৬ রানে।

শুধু আজকের ম্যাচে নয়, এবারের ডিপিএলে শুরু থেকেই ছন্দে আছেন জুনিয়র তামিম। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস, এরপর থেকে আজকের আগ পর্যন্ত ফিফটি পেরিয়েছেন আরও দুবার। এখন পর্যন্ত ৮ ইনিংসে ৭৬.৮০ গড়ে রান তুলেছেন ৩৮৪, যা এবারের টুর্নামেন্টে সপ্তম সর্বোচ্চ। স্ট্রাইকরেটটাও চোখ কপালে তোলার মতো - ১৪৩.২৮! অন্তত ২০০ রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তামিম ১২৯ রানের লক্ষ্য পেয়ে আরও বেশি বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন। অবশ্য পারটেক্সের রান আরও কম হতে পারত। ভাগ্যিস তিনে নেমে রুবেল মিয়া ৪১ রানের ইনিংস খেলেছেন। দলটির পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রান করেছেন আহরার আমিন। এর বাইরে ৩ জন রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন, আর ৩ জন ফিরেছেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই।

শেখ মেহেদী-রেজাউর রহমান রাজাদের স্পিনের রহস্যের কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছিলেন না পারটেক্সের ব্যাটসম্যানরা। মেহেদী একাই ৪ উইকেট নিয়ে পারটেক্সকে ধসানোর কাজটা এগিয়ে দেন। দুটি করে উইকেট নিয়ে বাকি কাজটা সারেন অফস্পিনার রাজা ও পেসার শরীফুল ইসলাম। বাকি দুটি উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন সাইমুন বশির ও সাইফ হাসান।

রান তাড়ায় নেমে আশরাফুল ইসলাম সিয়ামের প্রথম ওভারেই দুই বাউন্ডারি মেরে তামিম আভাস দেন, আজকের দিনটা তাঁর হতে যাচ্ছে। ইনিংসের সপ্তম ওভারে চতুর্থ বলে আলাউদ্দিন বাবুকে লং অফে ছক্কা হাঁকিয়ে মোটে ২৬ বলে ফিফটি পেরিয়ে যান তামিম, তখন রূপগঞ্জের স্কোরবোর্ডে ৬২ রান।

অবশ্য তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিং দেখে অন্যপ্রান্তে কিছুটা রয়েসয়ে খেলেছেন সাইফ। দুজনের জুটিতে ১৫তম ওভারে শত রান পেরিয়ে যায় রূপগঞ্জ। শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পায় ১৯তম ওভারে।

ওই ওভারের ২ বল শেষে তামিমের রান ছিল ৯৯, আর জয়ের জন্য রূপগঞ্জের দরকার ছিল ২ রান। রাকিবের করা ওভারের তৃতীয় বল লং অফ অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করে সেঞ্চুরি উদযাপনে মাতেন তামিম, একইসঙ্গে রূপগঞ্জও পেয়ে যায় এবারের ডিপিএলে পঞ্চম জয়ের দেখা।

৯ রাউন্ড শেষে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে রূপগঞ্জ। সমান ম্যাচে শীর্ষে থাকা আবাহনীর পয়েন্ট ১৬। মোহামেডান ও গাজী গ্রুপ যথাক্রমে ১৪ ও ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে।